মূল লেখায় যান
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশ

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের শঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা

প্রতিবেদক: বাংলা ব্রিফ
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের শঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিদের কাছে একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। এতে দলটির সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলোর আলোকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ব্যানার নিয়ে মিছিল বা প্রকাশ্য কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারেন। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া, সম্ভাব্য কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। তবে বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি বা বিশেষ আশঙ্কার তথ্য নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি থাকে। সামনে ১০ মহররমের আশুরা এবং ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।”

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতো পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, “নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশনাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান ও ধরপাকড় চালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।