19 June 2026
সাকলায়েনকে নিয়ে সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন পরীমণি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)-এর সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনার পর আলোচনায় উঠে এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমণির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আসে ২০২৪ সালের ২৫ জুন পরীমণি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি সাকলায়েনকে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার বলে দাবি করেছিলেন।
সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পরীমণি বলেছিলেন, “আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।”
তাদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।”
সম্পর্কের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরীমণি মন্তব্য করেন, “যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।”
সাকলায়েনকে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।”
তবে সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ কার- এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেন, “আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয়, প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না।”
সবশেষে তিনি বলেন, “তবে সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।”
সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্তের পর পরীমণির ওই মন্তব্যগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতেই সাকলায়েনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
