20 June 2026
পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও বর্ধিত বেতন হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হওয়ায় এই বিলম্ব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২৪ জুন পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।
অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রজ্ঞাপন জারি ও বিধি সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন অক্টোবরের মধ্যে কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হতে পারে।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের কার্যকর বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ অবসর-পরবর্তী সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ (প্রায় ৪৪ কোটি টাকা) থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে, যা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।
