মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 21 June 2026
বাংলাদেশ
banglabrief.com/
সংস্করণ
20 June 2026
বাংলাদেশ

গাইবান্ধায় ছেলের বিরুদ্ধে বাবার হত্যা মামলা দায়ের

একদিকে বড় ছেলেকে হারানোর অসহনীয় শোক, অন্যদিকে সেই মৃত্যুর বিচার চেয়ে ছোট ছেলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া—এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক বাবা। মোটরসাইকেল নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে বড় ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় নিজের ছোট ছেলেকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

শনিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহত দুই ভাইয়ের বাবা এরশাদুল হক বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুরা গ্রামে মোটরসাইকেল নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই তর্ক ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ভাই রাকিব (১৮) ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই সাকিবকে (২২) ছুরিকাঘাত করে।

পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত সাকিবকে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাকিবের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। যে দুই ভাই একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন, সেই দুই ভাইয়ের সম্পর্কের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীও।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, “বড় ছেলেকে হত্যার ঘটনায় ছোট ছেলের বিরুদ্ধে তার বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাকিব পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”

এদিকে, একটি মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই সন্তানের জীবনে এমন মর্মান্তিক পরিণতি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একজন হারিয়েছেন প্রাণ, আরেকজন হয়েছেন পলাতক আসামি। আর দুই ছেলের এই পরিণতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন তাদের বাবা-মা। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর স্বজনদের আহাজারিতে এখনো ভারী হয়ে আছে মাগুরা গ্রামের পরিবেশ।