মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 01 September 2026
আন্তর্জাতিক
banglabrief.com/
সংস্করণ
28 August 2025
আন্তর্জাতিক

ভারতে ফের বাড়ছে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা

প্রায় এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর হঠাৎই থমকে গিয়েছিল ভারত ভ্রমণকারী বাংলাদেশি পর্যটকদের পদচারণা। প্রায় শূন্যে নেমে এসেছিল এই সংখ্যা। তবে চলতি বছরের আগস্টে ফের সেই প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। আবারও বেড়েছে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি পর্যটকের আগমন।

পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দপ্তরের তথ্য বলছে, বুধবার (২৭ আগস্ট) একদিনেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন ৭৪১ পর্যটক। অন্যদিকে, বহির্গমন হয়েছে ৮২৩ জনের। অর্থাৎ ওই দিন ইমিগ্রেশন দিয়ে মোট ১ হাজার ৫৬৪ জন যাত্রী চলাচল করেছেন। এতে স্পষ্ট, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশিদের আগ্রহ ফের বাড়ছে।

সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় বিদেশি পর্যটন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানান, গত পাঁচ বছরে ভারতে আসা পর্যটকদের তালিকায় শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, ফ্রান্স ও সিঙ্গাপুরও রয়েছে সেই তালিকায়।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২০ ও ২০২৩ সালে বিদেশি পর্যটক আগমনের নিরিখে শীর্ষস্থানে ছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৪ এ যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ভারতে পর্যটন ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে উঠে এসেছে।

কলকাতার নিউমার্কেটের হোটেল ব্যবসায়ী মনোতোষ সরকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ থেকে প্রায় সমান সংখ্যক পর্যটক ভারতে আসেন। তবে ট্যুরিজম খাতে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে বাংলাদেশি পর্যটকদের থেকেই। কলকাতার নিউমার্কেট ও বড়বাজার এলাকায় ব্যবসা প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল বাংলাদেশি ক্রেতাদের উপর। তাই আমরা আশা করি ভারত ও বাংলাদেশ দ্রুত বসে ভিসাজনিত জটিলতা মেটাবে। কারণ এই সমস্যার কারণে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা-ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশি পর্যটকের আগমন শুধু ভ্রমণ বা কেনাকাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কলকাতা ও ভারতের অন্য বড় শহরগুলোতে মেডিকেল ট্যুরিজমেও অর্থাৎ চিকিৎসা খাতেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কলকাতার মুকুন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, কেরালা ও হায়দরাবাদের হাসপাতালগুলো বাংলাদেশি রোগী ও তাদের সহযাত্রীদের উপর নির্ভরশীল।

গ্লোবাল ট্যুরিজম সংস্থার কর্মকর্তা উপাসনা ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা মূলত দুটি কারণে ভারতে আসেন- ভ্রমণ ও চিকিৎসা। রোগী ও তার পরিবার চিকিৎসার পাশাপাশি কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরি করেন। এর মাধ্যমেই গড়ে ওঠে মেডিকেল ট্যুরিজম। এতে যেমন পর্যটন খাত লাভবান হয়, তেমন ভারত সরকারেরও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভিসাজনিত জটিলতা কিছুটা কমে আসায় পর্যটকের সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে। আমরা চাই, এ সহযোগিতা আরও মজবুত হোক ও দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক।