16 July 2026
পে স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি সভা শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেবে।
এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবম জাতীয় বেতন কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনার পাশাপাশি অষ্টম বেতনকাঠামোর সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় অংশ নেওয়া পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের অসন্তোষ বা বৈষম্যের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রতিটি সুপারিশ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে অষ্টম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। একই সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আরো সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে কমিটি।
পর্যালোচনা কমিটির সূত্র জানায়, সদস্যরা নীতিগতভাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত না করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধি না করে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পক্ষে অধিকাংশ সদস্য মত দিয়েছেন।
এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে মূল বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে-সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
