মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 17 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
16 July 2026
অন্যান্য

স্পেনের সঙ্গে ফাইনাল নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচ নিয়ে নিজের মত জানিয়েছেন নিওনেল মেসি মেসি।

মেসি বলেন, ‘তারা দারুণ একটি দল। অসাধারণ সব খেলোয়াড় এবং সুসংগঠিত খেলার ধরন রয়েছে তাদের। বহু বছর ধরে একই দর্শনে খেলছে তারা। অনেক খেলোয়াড়কে আমি ভালোভাবে চিনি, অনেকের বিপক্ষে খেলেছি, কয়েকজন বার্সেলোনাতেও খেলছে—যে ক্লাবটিকে আমি ভালোবাসি। এটি একটি বিশেষ ফাইনাল হবে। আমি মনে করি, ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর টিওয়াইসি স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকারে দেন মেসি। তিনি বলেন, এই জয় অন্য যেকোনো জয়ের মতো ছিল না; কারণ এটি আর্জেন্টাইন জনগণের জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। একই সঙ্গে জাতীয় সংগীতের সময় দলের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মেসি বলেন, ‘শুরু থেকেই সবকিছু ছিল অবিশ্বাস্য। মাঠে প্রবেশের সময় এবং জাতীয় সংগীত চলাকালে আমরা বিশেষ এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি, পুরো দল সেটি অনুভব করেছে। এটি শুধু আরেকটি জয় ছিল না। এটি এমন একটি জয়, যা আর্জেন্টিনার মানুষ চেয়েছিল, আমরাও চেয়েছিলাম। আর সেই জয় আমাদের আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে গেছে।’ টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এই দল অসাধারণ। আজও কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা লড়াই করেছি, কখনো বিশ্বাস হারাইনি, চেষ্টা থামাইনি। নিজেদের ফুটবল খেলেছি। পিছিয়ে থেকেও প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে চেপে ধরেছিলাম। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

আরেকটি নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই দলকে নিয়ে আমার বিশ্বাস ছিল। জানতাম, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। আর এখন আমরা আবারও একটি ফাইনালে। টানা পাঁচটি বড় ফাইনাল, টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল—এটি অবিশ্বাস্য।’

দলের প্রতি আস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দল আমাকে হতাশ করে না। আমরা জানতাম আমাদের সামর্থ্য কী। অনেকে হয়তো সন্দেহ করেছিল, কারণ কয়েকজন খেলোয়াড় শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট ছিল না। কিন্তু এই দল একসঙ্গে হলে সবসময় নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে পারে। একজন আরেকজনকে অনুপ্রাণিত করে এবং নিজেদের অজানা শক্তিও খুঁজে পায়।’

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘আমরা যেমন এই মুহূর্ত উপভোগ করছি, আপনারাও তেমন উপভোগ করুন। আমরা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে, আবারও বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। গত চার বছর ধরে আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাটিয়েছি, এখন আবার ফাইনালে। এই মুহূর্ত উপভোগ করুন। আজ আমরা শেষ ধাপটি পেরিয়েছি, যেটা আমরা সবাই চেয়েছিলাম। এখন বাকিটা ঈশ্বরের ইচ্ছা।’

সমালোচকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও ফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে, গত চার বছরে আমরাই সেরা—মানুষ সেটা মানুক বা না-মানুক। আজও আমরা বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। এতে বোঝা যায়, আমাদের অর্জনগুলো কাকতালীয় নয়, কেউ আমাদের কিছু উপহার দেয়নি। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা খুব কম দলের পক্ষেই সম্ভব, আর সেটাই এই দল করে দেখিয়েছে।’

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, ‘গত বছরই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সবকিছুই স্কালোনির সঙ্গে আলোচনা করে করেছি। নিজেকে সেরা অবস্থায় আনতে এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। ডিসেম্বরজুড়ে আর্জেন্টিনায় সকাল-বিকেল অনুশীলন করেছি। আমি জানতাম, বিশ্বকাপটা উপভোগ করতে হলে আমাকে শতভাগ ফিট থাকতে হবে।’

কোপা আমেরিকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় আমি শতভাগ ফিট ছিলাম না। চিলির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পেয়েছিলাম, পরে সেটি নিয়েই পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছি। তাই এবার শুরু থেকেই নিজেকে সর্বোচ্চভাবে প্রস্তুত করেছি, যেন নিজের সেরা খেলাটা খেলতে পারি।’

শেষে আর্জেন্টিনার মানুষের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘আমরা গর্বিত যে মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি। বিশ্বকাপ আমাদের জন্য সবসময়ই বিশেষ। আমাদের দেশে অনেক মানুষ বেকার, অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খান। এমন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা, আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

ইংল্যান্ডকে হারানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি ছিল বিশেষ একটি ম্যাচ। আমরা হারতে পারতাম না। এই দল কারও কাছে কিছু পাওনা নয়, কিন্তু আমরা জানি আর্জেন্টিনার মানুষ সবসময় আরও বেশি প্রত্যাশা করে। আজ যদি আমরা হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে কত কী বলত। আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি। ফুটবলীয় দিক থেকে আমরা যে ভালো দল, সেটা আমরা জানতাম। তবে এমন ম্যাচে ইতিহাসও তৈরি হয়। তাই এই জয় আমাদের জন্য বিশেষ ছিল এবং জিততেই হতো।’