মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 17 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
16 July 2026
অন্যান্য

হরমুজের পর এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধের উদ্যোগ ইরানের

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পর এবার বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের নৌপথও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বা জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনার পর ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর কাছে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালি আগে থেকেই বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তার মধ্যে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মতো আরেকটি বিকল্প প্রধান তেল রপ্তানি রুট বন্ধের এই হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের হোদাইদাহ ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে হুথিরা। ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও মারণাস্ত্রবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে নৌপথ অবরুদ্ধ করার সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিদের কাছ থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা এই সর্বাত্মক হামলা শুরু করবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে তেহরান বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর জুনে দুপক্ষের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিলে তেহরান এই নতুন কৌশলগত পাল্টা চাল চালল। যদি হরমুজ ও লোহিত সাগর—মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি প্রধান নৌপথ একসঙ্গে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে, তবে তা বৈশ্বিক সংঘাতের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, লোহিত সাগরের এই রুটটি বন্ধ হলে বিকল্প উপায়ে তেল রপ্তানির আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। ইরান ও হুথিদের পক্ষ থেকে আসা এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি আরবও। বিশেষ করে সোমবার(১৩ জুলাই) সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ায় এই অঞ্চলের উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে।