16 July 2026
স্বর্ণের দাম কমছে কেন?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমতে শুরু করায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফা সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বাজারে কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে অনেকের প্রশ্ন—এই মূল্যহ্রাস কি সাময়িক, নাকি সামনে আরও কমতে পারে? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এর উত্তর নির্ভর করছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, মার্কিন ডলারের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম কমার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচক প্রত্যাশার তুলনায় ইতিবাচক হওয়ায় শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের পরিবর্তে অন্য খাতে ঝুঁকছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে এবং দামেও সংশোধন এসেছে।
এ ছাড়া সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনাও স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে। কারণ সুদ বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
বাংলাদেশের বাজারে কী প্রভাব পড়ছে?
বিশ্ববাজারে মূল্য কমার পর বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেই দেশের বাজারে একই হারে দাম কমে না। কারণ স্থানীয় বাজারে মূল্য নির্ধারণে আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, কর-শুল্ক, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামনে আরও কমবে, নাকি আবার বাড়বে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের দামে আরও কিছুটা ওঠানামা হতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয় এবং ডলার ঊর্ধ্বমুখী থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমতে পারে।
তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কিংবা বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণের চাহিদা বাড়বে। সে ক্ষেত্রে দামও পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যারা অলংকার কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য বর্তমান সময় আগের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক। তবে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে চাইলে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, মার্কিন ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং ডলারের অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের বাজারে স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা স্বাভাবিক। তাই কেবল এক-দুই দিনের মূল্য পরিবর্তন দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিবেচনা করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের দামও দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারে।
