মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 18 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
17 July 2026
অন্যান্য

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে এনএলপির সংবাদ সম্মেলন: আমলাতন্ত্র সংস্কারের দাবি

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পদোন্নতির উদ্দেশ্যে গঠিত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের পদোন্নতি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়সংগততা ও সাংবিধানিক সমতা নিশ্চিতকরণ; বৈষম্য ও অনিয়মের শিকার কর্মকর্তাদের প্রতিকার প্রদান; দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা; পদোন্নতি ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার; এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব ও আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দেওয়ানি, ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ন্যাশনাল লেবার পার্টি (এনএলপি)।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফল রাষ্ট্রপ্রধান হতে আমলাতন্ত্র সংস্কার এর প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক” এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ন্যাশনাল লেবার পার্টি (এনএলপি) এর সভাপতি আব্দুল্লাহ জিয়া। এসময়ে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মো: আশরাফ হোসেন এবং আব্দুর রাহী।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহ জিয়া বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রশাসনিক লবিং, পেশাগত গ্রুপিং, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ অথবা অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিবেচনা যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।যোগ্যতা, মেধা, কর্মদক্ষতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও বিধিবদ্ধ মানদণ্ডই পদোন্নতির একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত। সফল রাষ্ট্রপ্রধান হতে আমলাতন্ত্র সংস্কার এর প্রয়োজনীয়তায় কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন।

১। সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের পদোন্নতি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।

২। নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক সমতা নিশ্চিতকরণ।

৩। বৈষম্য ও অনিয়মের শিকার কর্মকর্তাদের প্রতিকার।

৪। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা।

৫। পদোন্নতি ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার এর প্রয়োজন।

৬। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, অসদাচরণ ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

৭। সুশাসন, সাংবিধানিক ন্যায়বিচার ও মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রার্থিত ব্যবস্থা।

৮। কর্মকর্তা পদোন্নতির ক্ষেত্রে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যাচাইবিহীন প্রতিবেদন ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত এবং পদোন্নতি ব্যবস্থার সংস্কার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফল রাষ্ট্রপ্রধান হতে আমলাতন্ত্র সংস্কারের কোন বিকল্প নেই। আর এখেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে জোরালো প্রাধান্য দেয়া উচিত।

১. অতীত ও বর্তমান পদোন্নতি কার্যক্রমে ব্যবহৃত সকল গোপন, নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা প্রতিবেদন একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

২. কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রতিবেদন যদি মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপ্রসূত অথবা যাচাইবিহীন বলে প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী, সুপারিশকারী, অনুমোদনকারী এবং তা ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয়, দেওয়ানি ও প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

৩. কেবলমাত্র একতরফা, অযাচাইকৃত বা গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত না করার জন্য সুস্পষ্ট আইনগত ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।

৪. যেসব কর্মকর্তা এ ধরনের প্রতিবেদনের কারণে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের অভিযোগ পুনঃপর্যালোচনা করে আইনানুগ প্রতিকার, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পদোন্নতির পুনর্বিবেচনা, জ্যেষ্ঠতা পুনঃনির্ধারণ এবং অন্যান্য সার্ভিস সুবিধা পুনর্বহালের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

৯। কর্মকর্তা মূল্যায়নের জন্য নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা

ন্যাশনাল লেবার পার্টি (এনএলপি) এর সভাপতি আব্দুল্লাহ জিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনো কর্মকর্তা মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অথবা অযাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার না হন এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া সর্বদা মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, কর্মকর্তাদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সংবিধানের মৌলিক নীতি, আইনের শাসন ও সুশাসনের আদর্শ বাস্তবায়নের পথে একটি শক্তিশালী ভিত্তি নির্মিত হবে।বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি, আইনের শাসন, সুশাসন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের স্বার্থে উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।