17 July 2026
ক্লাসরুমে নয়, বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি গুরু-শিষ্য

গুরুর দীক্ষা দিয়ে গুরুকে বধ করবেন লিওনেল স্কালোনি! নাকি শিষ্যের কাছে গোপন রাখা কৌশল দিয়ে শিষ্যকে বশীভূত করবেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে! এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচের উত্তেজনার মাঝে ‘টক অব দ্য টুর্নামেন্ট’ গুরু-শিষ্যের লড়াই।
ইংল্যান্ডকে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে হারানোর পর রয়টার্স লিখেছে, ‘ফ্রান্সকে হারালো স্পেন এবং আর্জেন্টিনা পরাজিত করল ইংল্যান্ডকে। ফাইনালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্ব ও দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হচ্ছে। আর বিপরীত বেঞ্চে থাকবেন সাবেক শিক্ষক ও ছাত্র।’
মর্যাদা আর খ্যাতির দিক দিয়ে দুই দলের ফাইনাল ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে। রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। তবে দুই কোচের বিশেষ বন্ধন সেই মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর দে লা ফুয়েন্তে জানান, তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে চান। কেন, আর্জেন্টিনাকে দুর্বল মনে করছেন বলে? না, স্কালোনির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই তার এমন চাওয়া। সম্ভবত দেখতে চান, শিষ্য তার কাছ থেকে কী শিক্ষা পেয়েছেন।
দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য আগেই স্কালোনিকে বিশেষ আসনে রেখেছেন। সাবেক শিক্ষার্থীকে তিনি ‘মায়েস্ত্রো’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকায় শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ায় স্কালোনিকে নিয়ে প্রশংসায় কার্পণ্য করেননি তিনি। ২০২৪ কোপা আমেরিকার শেষ ষোলোতে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচও দে লা ফুয়েন্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, ‘প্রফেসর দে লা ফুয়েন্তে লা রোজাসে আমাদের কোচিং প্রশিক্ষণ চলাকালে দারুণভাবে সহযোগীতা করেছেন। তার সঙ্গে আমার অনেক কথা হয়েছে এবং আমি সবসময় তার শুভ কামনা করি।’
দে লা ফুয়েন্তে ও স্কালোনির সম্পর্কের এই সূচনা ২০১৭ সাল থেকে। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার ছেড়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের লা রোজাস ফ্যাসিলিটিতে কোচিং কোর্সে ভর্তি হন স্কালোনি। ওই সময় দে লা ফুয়েন্তে স্পেনের যুব দলের কোচ ছিলেন। কোচিং কর্মসূচি চলাকালে স্কালোনির একজন লেকচারার ছিলেন তিনি।
স্পেনে নিজের কোচিংয়ের দীক্ষা নিয়েছেন স্কালোনি। শিক্ষকও ছিলেন স্প্যানিশ। এছাড়াও আরেকটি কারণে স্পেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক অন্য পর্যায়ে। ২০০৮ সালে তিনি স্পেনে জন্ম নেওয়া এলিসা মোন্তেরোকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তানরাও স্পেনে জন্ম নিয়েছে। পরিবার নিয়ে মায়োর্কাতে থাকেন তিনি।
এছাড়া খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে স্পেনের দেপোর্তিভো লা করুনা, রেসিং সান্তান্দের ও মায়োর্কায় খেলেছেন স্কালোনি। ২০২৪ ইউরোর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার পরিবার যেহেতু স্প্যানিশ, স্বাভাবিকভাবে আমি স্পেনকে সমর্থন করি।’
দুই বছর পর পরিস্থিতি একেবারে বদলে গেছে। প্রফেসর ও ছাত্র মুখোমুখি। ইতিহাস গড়ার হাতছানি দুজনের সামনেই। সব সম্পর্ক ছিন্ন করে স্কালোনি নিশ্চিতভাবে আর্জেন্টিনার জন্য নিজেকে নিংড়ে দেবেন। শেষ পর্যন্ত গুরু নাকি শিষ্যের জয় হয়, সেটা দেখার জন্য চাতক পাখির মতো কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থাকবেন দুই দেশের সমর্থকরা।
