20 July 2026
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক

ভারতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সোমবার (২০ জুলাই) দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালাচ্ছে ও মারধর করছে। আমরা সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন রাস্তায় থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান।
এর আগে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে সিজেপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে হাজারো সমর্থক যন্তর-মন্তরে জড়ো হয়ে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা সংসদ এলাকার উচ্চ নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে টিয়ার গ্যাস ও সীমিত বলপ্রয়োগ করা হয়। পরিস্থিতির কারণে সংসদের কয়েকটি প্রবেশদ্বার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সকাল প্রায় ১১টা ২৫ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা একাধিক নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন। পরে ১০ থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
সংসদ ভবনের কাছাকাছি কনস্টিটিউশন ক্লাব ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। দলটির দাবি, আরবিআইয়ের কাছে অন্তত সাতজন সিজেপি সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
তবে দিল্লি পুলিশ বলেছে, আরবিআইয়ের কাছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমিত মাত্রায় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ সঠিক নয়।
দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার সচিন শর্মা বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি।
পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, যন্তর-মন্তরে পুলিশের সহিংসতা বা ব্যাপক আটকের যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা সঠিক নয়। তারা দাবি করে, পুরো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে এবং গুজবে কান না দিয়ে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি চলতি বছরের মে মাসে অভিজিৎ দীপকে একটি ব্যঙ্গধর্মী ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পরজীবী ও তেলাপোকা সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের পর দলটির যাত্রা শুরু হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং লাখো অনুসারী পায়। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদও দলটির প্রতি সমর্থন জানান।
