21 July 2026
পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের হয়রানি থেকে সুরক্ষার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রিটে নতুন আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।
গত মে মাসে বাটারফ্লাই হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খলিলুর রহমান জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।
আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দেশে সুনির্দিষ্ট আইন থাকলেও পুরুষদের সুরক্ষা ও প্রতিকারের জন্য আলাদা কোনো আইন নেই। সংবিধানে নাগরিকদের সমঅধিকারের কথা বলা হয়েছে। তাই পুরুষদের জন্যও একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রয়োজন, যাতে নির্যাতনের শিকার পুরুষরা আইনি প্রতিকার পেতে পারেন।
রিটে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক আইনের অপব্যবহারের কারণে পুরুষদের অযথা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এ বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও আদালতের কাছে রুল চাওয়া হয়েছে।
রিটে আরও আবেদন করা হয়েছে, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হোক।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
তবে এটি শুধুমাত্র একটি রিট আবেদন। এ বিষয়ে হাইকোর্ট এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেননি। পরবর্তী আদেশের ওপর মামলার অগ্রগতি নির্ভর করবে।
