মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Wednesday, 22 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
21 July 2026
অন্যান্য

৩৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে মালতী রানী দাসকে রাজকীয় বিদায়

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী হাবাসপুর কাশিমবাজার রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের সহকারী শিক্ষিকা মালতী রানী দাসের ৩৬ বছরের গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষকতা জীবনের অবসান উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বক্তব্য, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. চাঁদ আলী শিকদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন মনির, সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান এবং মনিরা পারভিন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন মনির বলেন, “মালতী রানী দাস সবসময়ই একজন নিয়মশৃঙ্খলাপরায়ণ, দায়িত্বশীল ও কর্তব্যনিষ্ঠ শিক্ষিকা ছিলেন। নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন এ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর অবসর জীবন কাটাতে পারেন।”

প্রধান শিক্ষক মো. চাঁদ আলী শিকদার বলেন, “দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী গড়ে উঠেছে এবং আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে। দায়িত্ব পালনে তাঁর কোনো অবহেলা আমি কখনো দেখিনি। আজ তাঁর বিদায় আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসর জীবন কামনা করি।” বিদায় সংবর্ধনায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও উপহার তুলে দেওয়া হয়। সহকারী শিক্ষক পরিতোষ কুমার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন মনির এবং প্রধান শিক্ষক মো. চাঁদ আলী শিকদার তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা প্রিয় শিক্ষিকার কাছে নিজেদের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চান এবং তাঁর স্নেহ, মমতা ও আদর্শিক শিক্ষার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিদায়ী বক্তব্যে মালতী রানী দাস আবেগাপ্লুত হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও মায়ায় আমি বাঁধা পড়ে গেছি। আপনাদের কখনোই ভুলতে পারব না। যদি কখনো কোনো ভুল করে থাকি, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।”

এ সময় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তিনি সবার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। শেষপর্বে বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক বজলুর রশিদ তাঁর সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ অবসর জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা করতালি ও শুভকামনার মধ্য দিয়ে ফুলে সজ্জিত একটি গাড়িতে মালতী রানী দাসকে তাঁর নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেন। দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের এই বিদায় সংবর্ধনা উপস্থিত সবার হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।