মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Thursday, 23 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
23 July 2026
অন্যান্য

দিল্লি পুলিশকে ‘গুন্ডা’ বললেন নাসিরুদ্দিন শাহ

দিল্লিতে রাজপথে আন্দোলনরত তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটার ঘটনায় গর্জে উঠেছেন বলিউডের বরেণ্য অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। দিল্লি পুলিশের হিংস্র ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের ‘গুন্ডা’ ও বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। এক ভিডিও বার্তায় চরম ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের সাহস না হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রভাবশালী অভিনেতা।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার ঘটনার পরপরই সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাসিরুদ্দিন শাহর ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, "যদি একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি এই দেশের নেতৃত্ব দেয়, তবে তার ইচ্ছা থাকবে পুরো দেশ যেন তার মতোই অশিক্ষিত, অবিবেচক, অযোগ্য ও নির্মম হয়ে ওঠে।"

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমার মন ভীষণ ভারাক্রান্ত এবং আমি রাগে ফুঁসছি। মুখে মুখোশ আর হাতে লাঠি নিয়ে ওরা গুন্ডার মতো আচরণ করছে। এই পুলিশদের বলব, কখনো নিজেদের সন্তানদের কথাও ভাবুন। এটাও ভাবুন, একদিন আপনাদেরও এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।" আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভয় দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "সাহস হারাবেন না, বহু মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর আমার ভরসা আরও বেড়ে গেছে, আমরা আপনাদের পাশেই আছি।"

অন্যদিকে পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা আক্রমণাত্মক আচরণ করায় তারা বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগে দেখা যায়, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বেপরোয়া লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকেও হাতুড়ি ও লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের পেটাতে দেখা গেছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি)-সহ শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদেই মূলত এ আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে ইতিমধ্যে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেছেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও আন্দোলনকারীদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হলেও দিল্লি পুলিশের নির্মম আচরণের পর আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।