25 July 2026
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ককরোচ জনতা পার্টির (সিপেজি) আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা প্রকাশ করেন।
সেখানে তিনি বলেছেন, নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর সরকার দ্রুত তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করে এবং আগামী বছর থেকে কম্পিউটারভিত্তিক (সিবিটি) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, শুরু থেকেই তিনি ঘটনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং কখনো পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তার লক্ষ্য ছিল, পরীক্ষা মাফিয়ার কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি অন্যায় না হয়।
তিনি জানান, ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পুনঃপরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৬ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের বহু শিক্ষার্থীর সাফল্য তাকে সন্তুষ্ট করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করেছেন, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। এটি আমার ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ যেন কোনো দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের পরিবর্তে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে— এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সব সহযোদ্ধার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। একই সঙ্গে দেশসেবাই তার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতেও তিনি দেশের জনগণ ও যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবেন বলেও জানান তিনি।
