মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 26 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
26 July 2026
অন্যান্য

চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ, অনুসন্ধানে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে জেলে, মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডি ট্রলার ও ছোট জাহাজের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক জেলের ছদ্মবেশে গোপন অনুসন্ধান চালালে অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু তথ্য ও ভিডিওচিত্র সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাড়ানি খাল দিয়ে চলাচলকারী নৌযানগুলোর কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা, হয়রানি কিংবা নৌযান আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন একাধিক জেলে।

অনুসন্ধানে জেলের পরিচয়ে এক সাংবাদিক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে মুঠোফোনে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকাশে কিছু টাকা পাঠানোর পর তা কম হয়েছে জানিয়ে আরও টাকা নিয়ে সরাসরি দেখা করতে বলা হয়। পরদিন জেলের ছদ্মবেশে ওই সাংবাদিক নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে এএসআই মো. কবির তাকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তার হাতে টাকা তুলে দেওয়া হলে তিনি নিজ হাতে টাকা গুনে গ্রহণ করেন। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

অনুসন্ধানের সময় এএসআই মো. কবিরের সঙ্গে কথোপকথনে আদায় করা অর্থের ভাগ-বণ্টন সম্পর্কেও বিভিন্ন বক্তব্য উঠে আসে, এসময় তিনি জানান এই টাকার ভাগ উপর পর্যন্ত দিতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী (গজ গভীর) মিয়া বলেন, "এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।"

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে গোপন ক্যামেরার ভিডিও দেখানোর পর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অন্য এক সদস্য প্রতিবেদকের হাত থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করেন।

বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেদের কাছ থেকে এ ধরনের মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, জেলেদের হয়রানির অভিযোগ তার নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করা হবে।

এদিকে, এ বিষয়ে এএসআই মো. কবির মুঠোফোনে বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন এবং অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানেন না।

অন্যদিকে বরিশাল নৌ পুলিশ সুপার মুঠোফোনে জানান, আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। যদি তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।