মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Sunday, 26 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
26 July 2026
অন্যান্য

সীতাকুণ্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী ইরান গণপিটুনিতে নিহত 

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল ইরান নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধান। এলাকায় তার একটা বাহিনী দাপটে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললে করা হতো অমানুষিক নির্যাতন। তার অত্যাচারের ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন অনেক পরিবার। গত চারমাসে ইরান দুই জনকে খুন করেছে। থানায় মামলাও হয়েছে কিন্তু গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ হত্যাসহ প্রকাশ্যে মাদকের বিক্রি চালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে ধরেনি।

তবে এলাকাবাসির দীর্ঘদিনে ক্ষোভ ফুঁসলে উঠে গত শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১১ টার দিকে৷ উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের সন্ত্রাসী নুরুল ইসলাম প্রকাশ ইরানকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত ইরান দক্ষিন ভাটের খীল (২ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে। নিহত ইরানের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ও এক স্ত্রী রয়েছে।

জানা যায়, এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) নাইম (১৭) নামের এক যুবককে একশ পিস ইয়াবা চুরির অভিযোগে প্রকাশ্যে মারধর করে ইরান। এ ঘটনার পাঁচদিন পর চমেক হাসপাতালে মারা যান ওই যুবক। এরপর রাত নয়টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী ইরানকে খুঁজতে শুরু করে। তাকে না পেয়ে তার নতুন সিএনজি ও মোটরসাইকেল আগুন দেয়।

খবর পেয়ে ইরান ছুঁটে আসলেও তার স্ত্রী ও সন্তান তাকে পালিয়ে যেতে বলে। এক পর্যায়ে রাত এগারোটার দিকে ইরানকে তার বাড়ির উত্তর পাশে ঠান্ডা মিয়ার বাড়ির গোয়াল ঘরে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ধাওয়া দেয়। জনতার ধাওয়া খেয়ে রাস্তায় গেলে জনরোষের মুখে পড়েন ইরান। এসময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে ইরান নিহত হন।

এই ঘটনার পর, উত্তেজিত জনতা ইরানের ঘরসহ তার অপর তিন ভাই ও এক বোনের বসত ঘর আগুন ধরিয়ে দেয় । এতে পুড়ে ছাই হয়ে পুরো বাড়ি। এই ঘটনায় তিনটি মোটরসাইকেল, দুইটি সিএনজি, দুটি ভ্যান ও দুটি কৃষি কাজের ট্রাক্টর পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ইরানের ভাই ছোট ভাই হক সাব।

ঘটনাস্থল গণধোলাইয়ের পর পুলিশ দুই জনকে আটক করে। তারা হলেন, আলতাপ (৪৫) ও বাদশা (৫০) এদের মধ্যে আলতাপ কোর্টে পাঠানো হলেও বাদশা গুরুতর আহত হলে চমেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। আহতরা দুজনই ইরানের সহযোগী।

নিহত ইরানের স্ত্রী খালেদা আক্তার ও মেঝু ছেলে রিফাত বলেন, তিনি (ইরান) দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নাইমকে মারধরের ঘটনাও স্বীকার করেন তারা। তারা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু তার অপরাধের তাকে মেরেছে ঠিক আছে। কিন্তু সবার বসতঘর কেন জ্বালিয়ে দিয়েছে? ছেলে রিফাত আরও বলেন, আমার বাবা হত্যা ও মাদক ব্যবসা করলেও তাকে গত তিনমাসে পুলিশ ধরেনি কেন প্রশ্ন তুলেন? যদি এ এলাকায় মাদক বিক্রি হতো না।

এর আগ গত এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ রাতে শামীম নামের একজনকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ইরান এক নম্বর আসামি ছিলেন।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার (ওসি তদন্ত) মোঃ আলমগীর বলেন, নাইম নামের এক যুবককে মারধরের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে। তার বাবা বাদী হয়ে ইরানকে আসামি করে মামলা দায়ের করে থানায়। পরে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গেলেও আটক করা যায়নি। পরে রাতে এলাকাবাসী গনপিটুনিতে নিহত হন। ইরানের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা ও মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য এজাহারুল ইসলাম বলেন, নিহত ইরান আওয়ামী লীগের আমল থেকে মাদক ব্যবসা করেছিল। ৫ আগস্টের পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। নাইমকে মারধরের পর মারা গেলে তার জানাজায় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে শপথ নেন তাকে ছাড় দেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে তার লাশ এলাকায় প্রবেশ করতে দেবে না এলাকাবাসী, তার লাশকে যম ঘরে ফেলে দিতে আহবান জানান তারা। এছাড়াও পুলিশ জানিয়েছেন, লাশ নিতে আসবে না পরিবার।