মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 27 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
26 July 2026
অন্যান্য

কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব এর সদস্যরা হাওরের জলরাশিতে ঘোরাঘুরি

কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব এর উদ্যোগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) "হাওরে আনন্দধারা" স্লোগান ধারণ করে ক্লাবের ৬০ জন সদস্য নিয়ে হাওর ভ্রমণ করেন।

শুক্রবার সকালে কিশোরগঞ্জ থেকে রওনা হয়ে মিঠামইনের "দিল্লির আখড়া", মালিকের দরগা, মিঠামইন জিরো পয়েন্টসহ অনেকগুলো দর্শনীয় স্থানে ঘোরাঘুরি করেন।

এসময় কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবে'র সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিক আদনান, সহ সভাপতি আলী রেজা সুমন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাহ, অর্থ সম্পাদক উবায়েদ রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান রোকেল, আজীবন সদস্য মোঃ জাকারিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য তাফসিলুল আজিজ, রুমন চক্র বর্তী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, মশিউর রহমাম নাদিম, সাহিত্য সম্পাদক ওয়াজেদ, জনসংযোগ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন আকাশসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা হাওর ভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন।

" হাওরে আনন্দধারা" ভ্রমণে ছিলো আনন্দ উল্লাস, খাওয়া ধাওয়া, ফটোসেশন ও সবশেষ র‍্যাফেল ড্র এর আয়োজন।

কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের আয়োজনে এটা ছিলো ২য় বছর হাওর ভ্রমণ। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই "ভাটির স্রোতে স্বপ্নযাত্রা" নাম নিয়ে হাওর ভ্রমণ করেছিলো।

প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর হাওর-বাঁওড়–নদীবেষ্টিত জেলা কিশোরগঞ্জ। এই হাওর ঘিরে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের পদভারে মুখরিত থাকে হাওরাঞ্চল। হাওরে শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ধূলিওড়া মেঠোপথও আকর্ষণ করে পর্যটকদের।

হাওরে বর্ষা থাকে বছরের প্রায় ছয় মাস। পানি আসতে শুরু করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে। শেষ হয় আশ্বিন-কার্তিকে। বাকি কয়েক মাস এখানে শুকনাকাল।

কি শুকনা, কি বর্ষাকাল ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সৌন্দর্যের বিপুল পসরা সাজিয়ে বসে থাকে কিশোরগঞ্জের হাওর। বর্ষায় হাওর হয়ে ওঠে কূলহীন সাগর। বিশাল জলরাশির বুকে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর একেকটাকে ছোট দ্বীপের মতো লাগে।

হাওরজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি হিজলগাছ মন কাড়ে যে কারও। পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

বর্ষা–পরবর্তী শরতে হাওরে যখন পানি কমা শুরু হয়, তখন থেকেই আকাশে সাদা মেঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাজার হাজার ধবল বকেরও ওড়াউড়ি শুরু হয়। দুলতে থাকে হাওরপারের সাদা কাশবন। আসতে শুরু করে পরিযায়ী পাখি। ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা বিলে ফোটে সাদা শাপলা। শুষ্ক মৌসুমে পুরো হাওর হয়ে যায় দিগন্তবিস্তৃত সবুজ প্রান্তর। যেখানেই চোখ যায়, সবুজ আর সবুজ।

বালিহাঁসের ওড়াউড়ি। কালিম, জলপিপি, ডাহুক, পানকৌড়ি ও জলময়ূরের অবগাহন দেখলে মোহিত না হয়ে পারা যায় না। শরতে পরিযায়ী পাখির আগমন হাওরকে আরও আন্দোলিত করে তোলে।

কিশোরগঞ্জের হাওরে পর্যটকদের দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের ‘দিল্লির আখড়া’ সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। আখড়া ঘিরে এখানে রয়েছে শত শত হিজলগাছ। হিজলগাছের সারি তিন শ একরের আখড়া এলাকাজুড়েই। সারা বর্ষায় এগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ। এসব বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে তাকালে ৩০-৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো গ্রাম চোখে পড়ে না। বাঁধে দাঁড়িয়ে হাওর দেখা সাগর দেখার মতোই উপভোগ্য। এসব বেড়িবাঁধে বর্ষায় হাজার হাজার পর্যটক এসে ভিড় জমান। প্রতি বর্ষাতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন বেড়িবাঁধে।

এবারের বর্ষায় হাওরে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল অন্য বছরের তুলনায় বেশি। দেশের দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দল বেঁধে এসেছেন কিশোরগঞ্জের হাওরের বিভিন্ন মনোরম স্থানে। বর্ষাজুড়েই ছিল ভ্রমণ পিপাসুদের কোলাহল। উচ্ছ্বাস আর আনন্দে মাতোয়ারা ছিল হাওরাঞ্চল। এখনো রয়েছে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আনাগোনা।

বর্ষায় হাওরের বেশ কয়েকটি স্থানে দর্শনার্থীদের ঢল থাকে। এর মধ্যে করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়াঘাট, বালিখলা ও মিঠামইনের হাসানপুর সেতু, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সংযোগ সড়ক ও বেড়িবাঁধ, শিমুল বাঁকের হিজলবন, মিঠামইনের দিল্লির আখড়া, নিকলী বেড়িবাঁধ, ছাতিরচরের করচের বন এবং তাড়াইলের হিজলজানি হাওর উল্লেখযোগ্য। এসব দর্শনীয় স্থানে এসে অসংখ্য পর্যটক হাওর দেখার পাশাপাশি ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাঁতার, গোসল, জলকেলিতে মাতেন।