28 July 2026
জুলাই আন্দোলনে জবির মিছিলের অপেক্ষায় থাকতাম: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা স্মরণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক, এক দফার ঘোষক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম, কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।"
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগ জড়িয়ে আছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া নিঃসন্দেহে গৌরবের বিষয়। তিনি জুলাই আন্দোলনের সব শহীদ এবং আহত-আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তবে সেই অবদান অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনেও তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাই দেশের ইতিহাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জবিকে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাও আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা আন্দোলনের স্মৃতি, আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
