মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Thursday, 30 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
29 July 2026
অন্যান্য

২০ হাজার ইয়াবাসহ আটক রামুর নুরুল হাশেম

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবার চালান এনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতার প্রভাব ও বিস্তৃত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন রামুর নুরুল হাশেম।

নানা সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশেষে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ বিজিবির হাতে আটক হয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নুরুল হাশেমকে আটক করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)। একই সময় আটক করা হয় তার সহযোগী হাসান আলীকেও। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

আটক নুরুল হাশেম (৩৫) কক্সবাজারের রামু উপজেলার উত্তর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল গ্রামের মৃত খালেকুজ্জামানের ছেলে। তার সহযোগী হাসান আলী (২০) একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চাকঢালা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার-৪৪ থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার ভেতরে চাকঢালা বাজার এলাকায় চাকঢালা থেকে নাইক্ষ্যংছড়িগামী একটি সিএনজিকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। পরে চালকের আসনের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নুরুল হাশেম ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরুল হাশেম দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় তার একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, সরকার সমর্থক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকায় তার প্রভাব ছিল। সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। সীমান্তের চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে তা সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের গোপন স্থানে লুকিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। বুধবারের অভিযানে চালকের আসনের নিচে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার ঘটনাও সেই অভিযোগের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, জব্দ করা সিএনজি, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতসহ আটক দুই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।