মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 30 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
29 July 2026
অন্যান্য

বিদেশে পাসপোর্ট হারালে কী করবেন? আতঙ্ক নয়, জেনে রাখুন করণীয়

বিদেশ ভ্রমণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো পাসপোর্ট। এটি শুধু একটি ভ্রমণ নথি নয়, বিদেশে আপনার পরিচয় ও নাগরিকত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তাই ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা ব্যবসার কাজে বিদেশে গিয়ে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন।

তবে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে নতুন ভ্রমণ নথি সংগ্রহ করে নিরাপদে দেশে ফেরা বা বিদেশে অবস্থান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন, কী করবেন না এবং আগে থেকেই কী ধরনের প্রস্তুতি রাখা উচিত—জেনে নেওয়া যাক।

প্রথমেই শান্ত থাকুন

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা।

ভালোভাবে মনে করার চেষ্টা করুন, সর্বশেষ কোথায় পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন। হোটেলের রুম, রিসেপশন, গাড়ি, রেস্টুরেন্ট, বিমানবন্দর বা ব্যাগের প্রতিটি অংশ ভালোভাবে খুঁজে দেখুন। অনেক সময় তাড়াহুড়োয় অন্য পকেট বা ব্যাগে রেখে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় পুলিশকে দ্রুত জানান

পাসপোর্ট খুঁজে না পেলে যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় থানায় অভিযোগ (Police Report) করুন। পুলিশ রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ কারণ— নতুন পাসপোর্ট বা জরুরি ট্রাভেল ডকুমেন্ট পেতে এটি প্রয়োজন হয়, পরিচয় চুরি বা পাসপোর্টের অপব্যবহার রোধে এটি সহায়ক, অনেক দেশে বীমা (Travel Insurance) দাবি করতেও পুলিশ রিপোর্ট লাগে। অভিযোগের লিখিত কপি অবশ্যই সংগ্রহ করে নিজের কাছে রাখুন।

বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন

বিদেশে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সহায়তার জায়গা হলো সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন।

সেখানে গিয়ে বা ফোন করে জানাতে হবে—পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি,কোথায় ও কীভাবে হারিয়েছে, পুলিশ রিপোর্ট নম্বর, আপনার বর্তমান অবস্থান।

দূতাবাস পরিস্থিতি অনুযায়ী—নতুন পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করতে পারে, জরুরি ভ্রমণ সনদ (Emergency Travel Document), ট্রাভেল পারমিট বা এক্সিট পাস (যেখানে প্রযোজ্য), প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে পারে।

কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?

দূতাবাসে গেলে সাধারণত নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হতে পারে—পুলিশ রিপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি (যদি থাকে), পাসপোর্টের ফটোকপি, জন্মনিবন্ধন বা অন্যান্য পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ভিসার কপি, টিকিট বা ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য। যত বেশি তথ্য দিতে পারবেন, নতুন নথি পেতে তত সুবিধা হবে।

এয়ারলাইনকে জানিয়ে দিন

আপনার যদি দেশে ফেরার টিকিট আগে থেকেই বুক করা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনকে বিষয়টি জানান।

কারণ—পাসপোর্ট ছাড়া বোর্ডিং সম্ভব নয়। প্রয়োজনে তারা টিকিটের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দিতে পারে। অতিরিক্ত চার্জ বা নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই জানা যাবে।

ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তা নিন

যদি কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

তারা—দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করতে পারে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে পারে। ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স থাকলে দাবি করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।

ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স থাকলে সুবিধা পাবেন

অনেক আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সে পাসপোর্ট হারানোর জন্য আলাদা কভারেজ থাকে। এতে পাওয়া যেতে পারে— জরুরি নথি তৈরির খরচ, অতিরিক্ত হোটেল খরচ, নতুন টিকিটের অংশবিশেষ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা; তাই বিদেশে যাওয়ার আগে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের শর্তগুলো পড়ে নেওয়া উচিত।

ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করুন

বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতিগুলোর একটি হলো গুরুত্বপূর্ণ নথির ডিজিটাল ব্যাকআপ রাখা। যেমন— পাসপোর্ট, ভিসা,জাতীয় পরিচয়পত্র, বিমানের টিকিট, ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স, হোটেল বুকিং।

এসব স্ক্যান করে নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে (যেমন Google Drive, OneDrive বা iCloud) সংরক্ষণ করুন। পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যের কাছেও কপি রেখে দিন।

বিদেশে থাকাকালে মূল পাসপোর্ট সব সময় সঙ্গে রাখা উচিত?

বিদেশে থাকাকালে মূল পাসপোর্ট সব সময় সঙ্গে রাখা উচিত এটি সব ক্ষেত্রে নয়।

যদি আপনি দীর্ঘদিনের জন্য বিদেশে থাকেন এবং স্থানীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে প্রতিদিন মূল পাসপোর্ট সঙ্গে না রাখাই ভালো। বরং— নিরাপদ লকারে রাখুন। প্রয়োজন হলে ফটোকপি বহন করুন। ছবি তুলে মোবাইলে সংরক্ষণ করুন।

যেসব ভুল করবেন না

সামাজিক মাধ্যমে পাসপোর্ট হারানোর তথ্য ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করবেন না।

অপরিচিত কারও কাছে পাসপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেবেন না। ভুয়া দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ফাঁদে পা দেবেন না। পুলিশ রিপোর্ট ছাড়া দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন না।বিষয়টি দীর্ঘ সময় গোপন রাখবেন না।

বিদেশ ভ্রমণের আগে যে প্রস্তুতি নেবেন:

পাসপোর্টের অন্তত দুটি ফটোকপি রাখুন, ডিজিটাল স্ক্যান সংরক্ষণ করুন, দূতাবাসের ঠিকানা ও জরুরি নম্বর লিখে রাখুন, ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করুন, পরিবারের সদস্যদের কাছে নথির কপি রাখুন, জরুরি যোগাযোগ নম্বর আলাদা করে সংরক্ষণ করুন।

বিদেশে পাসপোর্ট হারানো নিঃসন্দেহে একটি জটিল ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। তবে সঠিক সময়ে পুলিশকে অবহিত করা, বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত থাকলে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে শুধু টিকিট ও ভিসা নয়, জরুরি পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকুন। একটু সচেতনতাই আপনাকে বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে পারে।