30 July 2026
এমপি নজরুল কান্ড, বেরিয়ে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও আলোচিত এক তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান চাকরি, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২৯ জুলাই) ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম আত্মীয়তার সূত্রে আলোচিত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে ওই পরিবারের বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সংসদ সদস্যদের সরকারি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি সেখানে যেতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুর রহমানের দাবি, গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কথোপকথন নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে অনুসন্ধান করে তিনি জানতে পারেন, গোপন যোগাযোগের জন্য তরুণীকে আলাদা একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ফোনে ব্যবহৃত সিমটি শ্যামনগরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত ছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে প্রথমে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, সংসদ ভবনে চাকরি, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস-২) হিসেবে পরিচয় এবং তথাকথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বলে দাবি করেন।
এ ছাড়া আলোচিত তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে সংসদ সদস্যের প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওবায়দুর রহমান। তার দাবি, ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পেতেও সহযোগিতা করা হয়েছে।
ওবায়দুর রহমান জানান, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন তিনি। তার দাবি, মামলার দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই নৈতিকস্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তার নির্বাচনি এলাকায় প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়। মঙ্গলবার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয় এবং সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
