মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Thursday, 30 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
30 July 2026
অন্যান্য

আশুলিয়ায় বিকাশের ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় নায়ফা ট্রেড বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিকাশের ইলেকট্রনিক অর্থ (ই-মানি) ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সন্ধানে কাজ চলছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নায়ফা ট্রেড বিডির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. আল আমিন (২১) ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ইউসুফ রায়হান (২৪)।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আল আমিন ২০২২ সালের ২০ মে থেকে নায়ফা ট্রেড বিডির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার, ইউসুফ রায়হান ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার এবং জাহিদ হাসান অন্তর ২০২৬ সালের ১৪ জুন থেকে ডিএসও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার বাদী নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার অভিযোগে বলেন, গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে আল আমিন বিকাশ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ই-মানি উত্তোলনের জন্য প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অ্যাকাউন্টস জেনারেল ম্যানেজারের কাছে ওটিপি চান। তিনি সরল বিশ্বাসে ওটিপি দিয়ে দেন। পরে অফিস বন্ধ হওয়ার পর ওটিপি চাওয়ায় সন্দেহ হলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান।

এরপর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা রাত সাড়ে নয়টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া বঙ্গ মার্কেট এলাকায় ইউসুফ রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনের চিত্রশাইল-কাঠালতলা এলাকা থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের অফিসে এনে হিসাব-নিকাশ যাচাই করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ওটিপি ব্যবহার করে আল আমিন ঢাকা ব্যাংকের হিসাব থেকে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার ই-মানি মাস্টার ওয়ালেটে নেন। পরে এর মধ্যে ৬৫ লাখ টাকার ই-মানি ইউসুফ রায়হানের বিকাশ এসএ ওয়ালেটে পাঠানো হয়। ওই অর্থ বাজারে বিতরণ না করে নিজের কাছে রেখে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি। বাকি ৪০ লাখ টাকার ই-মানি বাজারে বিতরণ করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আল আমিনের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং ইউসুফ রায়হানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে নায়ফা ট্রেড বিডি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অভিযানের সময় মোট ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে জাহিদ হাসান অন্তরও এই আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত। তিনজন মিলে ২৪ জুলাই সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত ১০টার মধ্যে নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়া কার্যালয় থেকে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ঘটনার পর জাহিদ হাসান অন্তর আত্মগোপনে চলে যান।

নায়ফা ট্রেড বিডি'র এজিএম ইফরান জানান, প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশের ই-মানি হিসেবে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে জানানো হলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

এবিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।