মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 31 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
30 July 2026
অন্যান্য

জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা

আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে নতুন করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করায় দেশের অন্যতম ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে এ অর্থ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে। পরে অর্থটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জিপিএইচ ইস্পাতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঋণখেলাপি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে জিপিএইচ ইস্পাতের আগে হাইকোর্টে রিট করেছিল। ওই রিটে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পেলেও পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তা স্থগিত করেন। এরপরও বিচারাধীন বিষয়টি গোপন রেখে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে নিম্ন আদালতে নিষেধাজ্ঞা চায়। সেখানে ব্যর্থ হয়ে একই বিষয়ে আবারও হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।

তিনি আরও বলেন, ২৯টি ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের কাছে তথ্য গোপন করা বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ ধরনের আচরণের জন্য তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানান।

শুনানিকালে জিপিএইচ ইস্পাতের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাদের দাবি, আগের মামলার বিষয়ে তাদের মক্কেল প্রয়োজনীয় তথ্য জানাননি। তবে আদালত সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে রিট আবেদন খারিজ করেন এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার আদেশ দেন। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিচারাধীন বিষয় গোপন করে আদালতের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এ ধরনের অসাধু প্রবণতা নিরুৎসাহিত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, জিপিএইচ ইস্পাতের বিপুল অঙ্কের ঋণসংক্রান্ত তথ্য গোপনের বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলের নজরে আসার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নেন।

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের এ আদেশ বিচারিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যয়ের নির্দেশ এ রায়কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।

এ বিষয়ে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের বক্তব্য জানতে সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

উল্লেখ্য, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড ২০০৬ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় এর প্রধান উৎপাদন কারখানা এবং নগরের আসাদগঞ্জে নিবন্ধিত প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ২০১২ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সম্পন্নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।