31 July 2026
৫৫ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোয় জীবনবাজি রেখে পারাপার

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালী জেলায় একটি জনপদের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ভাগ্যে জোটেনি একটি স্থায়ী সেতু। প্রায় ৫৫ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাঁশ ও কাঠের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিন স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নে মুসলিম কলোনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
জেলার সবচেয়ে বড় নোয়াখালী খাল পারাপারের একমাত্র মাধ্যম এই বাঁশ ও কাঠের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের।বর্ষাকালে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। সামান্য অসাবধানতায় ঘটে দুর্ঘটনা। অনেক শিক্ষার্থী বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানালেন স্থানীয়রা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক মানুষও প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের।
মুসলিম কলোনী বাসিন্দা নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম জানান, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। বর্ষাকালে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যায়, তখন খুব ভয় লাগে। অনেক সময় বই-খাতা নিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু চাই, যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারি।
কলোনীর বাসিন্দা পারভিন আক্তার জানান, বাজারে যাওয়া, হাসপাতালে রোগী নেওয়া সবকিছুর জন্য এই সাঁকোই ভরসা। ছোট শিশু আর বয়স্কদের নিয়ে পার হতে খুব কষ্ট হয়।বিশেষ করে গর্ভবতী কোনো মহিলা চিকিৎসক দেখাতে বা সিজার করাতে নিতে হলে কোলে করে নিতে হয়। অনেক সময় মারাত্মক আহত হয় অনেকে। ৫৫ বছর ধরে মানুষ কেবল আশ্বাসই শুনছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি। এখন আর আশ্বাস নয়, আমরা একটি সেতু চাই।
কলোনীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী নাফিস ইকবাল জানান, ছোটবেলা থেকে এই খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দেখছি। আজও একইভাবে জীবন বাজি রেখে মানুষ পারাপার করছে। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানিয়েছি, কিন্তু স্থায়ী সেতু হয়নি। পাঁচ হাজার মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদ জানান, ব্রীজটি নির্মাণের জন্য উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলেই যথানিয়মে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ শুরু হবে।
