মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Saturday, 01 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
31 July 2026
অন্যান্য

‘বীরানা’র নায়িকা জ্যাসমিন ধুন্না এখন কোথায়?

বলিউডের হরর সিনেমার ইতিহাসে কিছু ছবি সময়ের গণ্ডি পেরিয়েও দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে। সেই তালিকায় অন্যতম রামসে ব্রাদার্স পরিচালিত ১৯৮৮ সালের কাল্ট হরর ছবি ‘বীরানা’। ভয় আর রহস্যে মোড়া এই ছবি যেমন বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছিল, তেমনি রাতারাতি আলোচনায় নিয়ে এসেছিল ছবির নায়িকা জ্যাসমিন ধুন্নাকে। তবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যের পরই যেন রহস্যের চাদরে ঢেকে যায় তাঁর জীবন। অভিনয় ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন তিনি—এই প্রশ্নের উত্তর আজও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

জ্যাসমিন খুব অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে অভিনেতা বিনোদ খান্নার সঙ্গে ‘সরকারি মেহমান’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘ডিভোর্স’ ছবিতেও অভিনয় করেন। তবে প্রথম দিকের কোনো ছবিই তাঁকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেনি।

দীর্ঘ সংগ্রামের পর তাঁর জীবনে বড় মোড় আসে রামসে ব্রাদার্সের ‘বীরানা’ ছবির মাধ্যমে। সে সময় বলিউডের অনেক প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী হরর বা বি-গ্রেড ঘরানার ছবিতে কাজ করতে অনাগ্রহী ছিলেন। কিন্তু জ্যাসমিন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

১৯৮৮ সালের ৬ মে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তিনি এক অপরূপ সুন্দরী তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন, যার শরীরে ভর করে এক ভয়ংকর পিশাচী। তাঁর নিষ্পাপ সৌন্দর্য আর ভয়ঙ্কর রূপান্তরের অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। স্বল্প বাজেটের এই ছবিটি বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং জ্যাসমিন রাতারাতি পরিচিত মুখে পরিণত হন।

ছবির প্রযোজক ও পরিচালক দীপক রামসে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ‘বীরানা’ মুক্তির পর বিভিন্ন প্রযোজক তাঁদের অফিসে এসে জ্যাসমিনের যোগাযোগের নম্বর চাইতেন। নতুন ছবির প্রস্তাবেরও অভাব ছিল না। কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

বলিউড যখন তাঁর জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছিল, তখনই অভিনয়জগৎ থেকে সম্পূর্ণ সরে যান জ্যাসমিন। তিনি ফোন ধরা বন্ধ করে দেন এবং এরপর আর কোনো ছবিতে অভিনয় করেননি। ধীরে ধীরে সব ধরনের জনসম্মুখ থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেন।

এই রহস্যময় অন্তর্ধান ঘিরে বছরের পর বছর নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কেউ দাবি করেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রহের কারণে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। আবার কারও মতে, মায়ের মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত শোক ও মানসিক অবসাদের কারণে তিনি নিভৃত জীবন বেছে নিয়েছিলেন। এমনকি একসময় তাঁর মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এসব জল্পনার মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে আনেন ‘বীরানা’ ছবির সহ-অভিনেতা হেমন্ত বীরজে। তাঁর দাবি, জ্যাসমিন জীবিত আছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। মাঝেমধ্যে তিনি মুম্বইয়ের ভার্সোভায় এলেও জনসমক্ষে আসেন না। হেমন্ত আরও জানান, তাঁদের মধ্যে মাঝে মাঝে ফোনে কথাও হয়। তবে জ্যাসমিন নিজের অতীত কিংবা ‘বীরানা’ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা করতে চান না।

দীপক রামসেও জানিয়েছেন, ছবি মুক্তির পর প্রথম দিকে জ্যাসমিনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ধীরে ধীরে সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সম্পূর্ণ আড়ালে চলে যান।

প্রায় চার দশক পরও জ্যাসমিন ধুন্নাকে ঘিরে কৌতূহল কমেনি। এক সময় যিনি বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত মুখগুলোর একজন ছিলেন, তিনি আজও রহস্যে ঘেরা এক নাম। খ্যাতির ঝলক থেকে দূরে সরে যাওয়ার পেছনে তাঁর ব্যক্তিগত কারণ কী ছিল, তা এখনও অজানা। আর সেই অজানাই হয়তো ‘বীরানা’র নায়িকাকে বলিউডের সবচেয়ে রহস্যময় তারকাদের একজন করে রেখেছে।