মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 01 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
01 August 2026
অন্যান্য

আজ থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে গণপরিবহনে জিপিএস 

আজ (১ আগস্ট) থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শুধু ডিভাইস স্থাপন করলেই হবে না, এটি সার্বক্ষণিক সচল রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন এবং ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় জিপিএস সংযুক্ত অবস্থায় গাড়ি নিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ জন্য জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কিংবা ফিটনেস সনদের জন্য আসার সময় জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত থাকতে হবে। বিআরটিএর ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিপিএস স্থাপনের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি চালু করা সম্ভব হবে না। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

সড়কে নামলেই গণপরিবহনের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা চোখে পড়ে। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, একাধিক লেন দখল করে যাত্রী ওঠানামা এবং এর ফলে সৃষ্ট যানজট নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে বাসের অবস্থান, গতি ও চলাচলের রুট পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অনুমোদিত রুটের বাইরে চলাচল এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাড়ি থামানোর মতো বিষয়গুলো তদারক করা সহজ হতে পারে।দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও জিপিএসের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোনো বাস কখন কোথায় ছিল, কী গতিতে চলছিল এবং কোন রুট অনুসরণ করছিল এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকলে দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ঘটনার তদন্তে তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা ও যাত্রীবান্ধব মোবাইল অ্যাপ চালু করা হলে যাত্রীরা বাসের অবস্থান এবং সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানতে পারবেন। এতে অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

জিপিএস ব্যবস্থায় বাস মালিকরাও তাদের গাড়ির অবস্থান, রুট, গতি ও চলাচলের সময় পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এতে বহর ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি অপচয় কমানো এবং রুটের বাইরে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে। বাস চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অবস্থান শনাক্ত করতেও এ প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে।

পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ উঠলে জিপিএসের তথ্যের মাধ্যমে তা যাচাই করা সহজ হতে পারে। দুর্ঘটনা, ডাকাতি, হামলা বা যান্ত্রিক ত্রুটির মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জিপিএস সংযোজন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য পর্যবেক্ষণ, আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কার, কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে শুধু জিপিএস স্থাপনের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজনের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।