01 August 2026
কক্সবাজারে আকাশে উড়তে গিয়ে আর ফেরা হলো না পর্যটকের

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে শৌভিক রায় নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে দরিয়ানগর সৈকত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শৌভিক খুলনা সদরের বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোট নয় সদস্যের একটি পর্যটক দলের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছরে একই ধরনের একাধিক ঘটনার পর আবারও কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে স্বজন ও সফরসঙ্গীদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা যায়।
তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি নেই। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটক ঝাউগাছের ডগায় আটকে দীর্ঘ সময় ঝুলে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও ওই ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে একই এলাকায় প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটক দম্পতি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে আহত হন। সে সময় জেলা প্রশাসন জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নিয়ম ভেঙে একসঙ্গে দুজনকে নিয়ে উড্ডয়ন করানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম জব্দ করে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই বছরের আরেক ঘটনায় এক নারী পর্যটক প্যারাসেইলিং চলাকালে সমুদ্রে পড়ে আহত হন। তখনও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় পরিচালিত অধিকাংশ প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যান্ত্রিক সক্ষমতা এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নমানের লাইফ জ্যাকেট, পুরোনো দড়ি, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং পর্যাপ্ত উদ্ধারব্যবস্থার অভাবে পর্যটকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম সময় রাইড দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা, কার্যকর মনিটরিং এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা মান যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং কঠোর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
