মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Monday, 03 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
02 August 2026
অন্যান্য

ঢাবিতে শিবির নেতার কক্ষে ‘আপত্তিকর’ ঘটনা, মিলল অভিযুক্তদের পরিচয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দুই বহিরাগত যুবককে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবকের পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তারা হলেন মো. ফারহান ও মো. আরমান।

হল প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই বহিরাগত যুবককে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (৩১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত ২৭ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের একটি কক্ষে ধারণ করা হয় বলে জানা গেছে। ওই কক্ষটি ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহিম খলিলের বলে জানা গেছে।

ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত দুই যুবককে ভিডিও ধারণকারী ইউসুফ আরেফিন রুমেলের কাছে ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে এজিএস ইব্রাহিম খলিলকে দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফারহান ও আরমান দুজনের বাড়িই নোয়াখালী সদর উপজেলায়। ফারহানের বাড়ি ব্রহ্মপুর এলাকায় এবং আরমানের বাড়ি ডানামিয়ার বাজার এলাকায়। তারা দুজনই নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফারহান এজিএস ইব্রাহিম খলিলের মায়ের মামাতো ভাই এবং আরমান তার বন্ধু। এ ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নিয়েছেন ইব্রাহিম খলিল।

জিডির খসড়ায় ইব্রাহিম খলিল উল্লেখ করেছেন, গত ২৭ জুলাই ফারহান হলে এসে তার কক্ষে থাকার অনুমতি চাইলে তিনি সরল বিশ্বাসে তাকে থাকার সুযোগ দেন। পরে ফারহান তার বন্ধু আরমানকে কক্ষে নিয়ে আসেন। জায়গার সংকট থাকায় আরমানকে রাখতে আপত্তি জানালেও তারা কক্ষে অবস্থান করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরদিন সকালে তিনি ক্লাসে যান এবং পরে বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘাটে বেড়াতে বের হন। ওই সময় কক্ষে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন।

ইব্রাহিম খলিলের দাবি, ওই ঘটনার কারণে তার হলের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তিনি সামাজিকভাবে মানহানির শিকার হয়েছেন। নিজের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় জিডি করতে চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ভিডিও ধারণকারী ইউসুফ আরেফিন রুমেল এজিএস ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পর ভিডিও প্রকাশের কারণ এবং ঘটনার সময় হল প্রশাসন বা হল সংসদকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘অভিযুক্ত এজিএসের সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, বহিরাগত দুই যুবককে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হল সংসদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।