03 August 2026
অতিরিক্ত ভাড়া আর ফিটনেসবিহীন গাড়িতেই নতুন যাত্রার সূচনা

দেড় যুগের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে রাজধানীর গুলিস্তান রুটে পুনরায় সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার ঘোড়াশাল ফেরিঘাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড’ (কেটিএল) সার্ভিসের উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। সরাসরি পরিবহন ব্যবস্থা ফিরে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নতুন করে চালু হওয়া বাসের মান ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে জনমনে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার অতি সন্নিকটে হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে কালীগঞ্জবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ২০২২ সাল পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রের পাতায় উঠে এসেছে এই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার করুণ চিত্র। সরাসরি বাস না থাকায় রাজধানীমুখী যাত্রীরা আড়িখোলা রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া মাত্র ৩টি ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু ট্রেনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতেন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে, যারা সড়কপথে যাতায়াত করতেন, তাদের ভেঙে ভেঙে কয়েক দফায় টঙ্গী হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো। এতে সময় ও অর্থ—উভয়ই অপচয় হতো বলে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল।
প্রায় দেড় যুগ আগে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড’ (কেটিএল) সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিআরটিসি বাস চালুর চেষ্টা করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি । সোমবার পুনরায় কেটিএল সার্ভিসটি চালু হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হলেও বাসের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ দূরত্ব ও উন্নত রুটে চলাচলের জন্য যেসব বাস আনা হয়েছে, তার অধিকাংশেরই অবস্থা জরাজীর্ণ। ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাস এবং চড়া ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির বদলে অস্বস্তিই বেশি দেখা দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, "কেটিএল সার্ভিসটি একসময় এই অঞ্চলের প্রাণ ছিল। কিন্তু বিগত সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা চিন্তা না করেই এটি বন্ধ করে দেয়। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে পেরে আমি আনন্দিত। আশা করছি, এটি জনভোগান্তি নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।"
তবে সার্ভিসের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বেসরকারি চাকুরিজীবী মো. শামসুল আলম বলেন, "সরাসরি বাস চালু হওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট কমবে ঠিকই, কিন্তু যেসব লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি আনা হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ যাতায়াতের জন্য উন্নত মানের বাস প্রয়োজন।"
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আতিক হোসেন জানান, "এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলাচলের কথা বলে যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের নাগালে নেই। নতুন যুগে যদি পুরনো মানহীন বাস দিয়ে যাতায়াত করতে হয়, তবে যাত্রীরা পুনরায় মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।"
কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম মোড়ল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীদিনে ঢাকায় ইলেক্ট্রিক গাড়ীর শুধু অনুমোদন দিবেন। আর আমাদেরও ইচ্ছে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ইলেক্ট্রিক এসি বাস সার্ভিস চালু করার। বর্তমানে ঘোড়াশাল ফেরিঘাট থেকে টঙ্গী হয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মোট ৩২টি বাস নির্দিষ্ট সময় পরপর গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
তিনি আরো দাবি করেন, পর্যায়ক্রমে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
যাতায়াত ব্যবস্থার এই নতুন সূচনায় কালীগঞ্জবাসী সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ পেলেও যানের মানোন্নয়ন এবং ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
