মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 03 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 August 2026
অন্যান্য

নোবিপ্রবি ছাত্রদলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুই নেতা বহিষ্কার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। এ সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং আবারও আলোচনায় এসেছে।

বরিবার (২ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম এবং প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সংগঠন-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বহিষ্কৃত দুই নেতা শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলে দীর্ঘদিন ধরে অন্তত চারটি বলয় সক্রিয় রয়েছে। সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন এবং সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলামের অনুসারীরা পৃথকভাবে সক্রিয় থাকায় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সময় সময় প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বহিষ্কারাদেশে কোনো গ্রুপ বা অভ্যন্তরীণ বিরোধের উল্লেখ নেই।

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত এপ্রিল মাসে। সাবেক উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ বলয়ের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন এলাকায় তাকে টেনেহিঁচড়ে ও চ্যাংদোলা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনার পর সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, দলের ভেতরের একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তরা বিষয়টিকে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেন। সে সময় শাখা সভাপতিও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের কথা জানিয়েছিলেন।

সংঘাতের জেরে ঘটনার দুই দিন পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নোবিপ্রবি শাখার পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয় সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মারুফকে।

সংগঠন-সংশ্লিষ্টদের মতে, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, বলয়ভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের কারণে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদল গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সর্বশেষ দুই নেতার বহিষ্কারকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন তারা।

বহিষ্কারের বিষয়ে শাখার সাবেক সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম বলেন, "আমাদের সংগঠনের একটি সংস্কৃতি রয়েছে। কোনো সমস্যা হলে আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের কোনো ধরনের অবহিতকরণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি সংগঠনের প্রচলিত সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।"

বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন বলেন, "বহিষ্কারের আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি। দলের দুঃসময়ে আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং আদর্শবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াইনি। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য ছিল। যদি সেই ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে তা দুঃখজনক। তবে সংগঠনের সব সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি।"

অভিযোগ প্রসঙ্গে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, "বহিষ্কারাদেশে স্পষ্টভাবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। এখানে ব্যক্তিগত অনুসারী বা গ্রুপিংয়ের কোনো বিষয় নেই। ছাত্রদলে রাজনীতি করতে হলে সংগঠনের নিয়ম, নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। কেউ সংগঠনের নীতিমালা অনুসরণ না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সংগঠনের এখতিয়ার।"

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এ সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।