মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 04 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 August 2026
অন্যান্য

রাতের আঁধারে উপকূলীয় বাঁধ কাটার চেষ্টা

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা এলাকায় গভীর রাতে সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পানি চলাচলের জন্য পাইপ (স্থানীয়ভাবে 'নাসি') বসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক বাধা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্কেভেটর (খননযন্ত্র) ও ১৫টি পাইপ জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) রাত প্রায় ১১টার দিকে শরৎঘোনা এলাকার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিস্বার্থে পানি প্রবাহের সুবিধা তৈরির উদ্দেশ্যে সরকারি বাঁধ কাটার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি গ্রাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে সরকারি বেড়িবাঁধ কাটার প্রস্তুতি দেখতে পান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানো হলে তার নির্দেশনায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি স্কেভেটর ও ১৫টি পাইপ জব্দ করা হয়। পুনরায় যাতে কেউ কাজ শুরু করতে না পারে, সেজন্য সেখানে একজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ কেটে পাইপ বসানোর চেষ্টা হচ্ছিল। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা কাজ বন্ধ করি। ইউএনও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শরৎঘোনা এলাকার হারুন মাতবরপাড়ার নুর মুহাম্মদ, লালমিয়াপাড়ার মনু এবং শরৎঘোনার জহিরুল ইসলাম এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্যই সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তারা বলেন, ওই স্থানে আগে থেকেই একটি পাইপ ছিল। নতুন করে পানি চলাচলের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত পাইপ স্থাপনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানো বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজ করতে হলে প্রথমে কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), নকশা অনুমোদন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হয়। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারেই এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। রাতের আঁধারে এ ধরনের কোনো সরকারি কাজ পরিচালনার প্রশ্নই ওঠে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শরৎঘোনার এই উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের জোয়ার, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ত পানির আগ্রাসন ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি থেকে হাজারো পরিবার, কৃষিজমি, চিংড়িঘের এবং বসতভিটা রক্ষা করে আসছে। বাঁধের কোনো অংশ দুর্বল হয়ে গেলে বা অবৈধভাবে কেটে পাইপ বসানো হলে দুর্যোগের সময় সমুদ্রের পানি সহজেই জনপদে প্রবেশ করতে পারে। এতে মানুষের জীবন, সম্পদ এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ব্যক্তিস্বার্থে কেউ যাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, বর্তমানে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ফিরে এলে তার সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।