03 August 2026
যুবদল নেতার হাতের কব্জি কেটে দিলেন আ’লীগ নেতা

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির আইল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার বাম হাতের কব্জি কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ওই যুবদল নেতা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হাসান রমন (৪২) জালালপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, তিনি মথুরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান একই গ্রামের বাসিন্দা এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। তার স্ত্রী আমেনা বেগম একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।
স্থানীয়দের মতে, জমির আইল কাটা নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে মিজানুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে হাসান রমনের বাম হাতে কোপ দেন। এতে তার হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে হাসান রমনের মা বিউটি বেগমও হামলার শিকার হন। আহত মা-ছেলে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলার বাদী ও আহতের বাবা দুদু মিয়া অভিযোগ করেন, জমির বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার ছেলে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, হাসান রমনসহ কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলেন। সে সময় তার হাতে ঘাস কাটার একটি হাসুয়া ছিল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই হাসুয়ার আঘাতে হাসান রমনের কব্জি কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামি মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
