মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 04 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 August 2026
অন্যান্য

নবীগঞ্জে টিলা কাটার বিরোধ, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নবীগঞ্জে পাহাড়ি টিলা কাটার জের ধরে, একটি পরিবারের উপর হামলা, গৃহবধুকে নির্যাতন, পেটের সন্তান নষ্ট, বাড়ি ভাংচুর, আদালতে মামলা করে ৩০দিন ধরে পালিয়ে ভেড়াচ্ছেন। বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আলাদা আরেকটি মামলা করেছেন। গ্রামের মধ্যে একাধিকবার সালিশ হলেও প্রতিপক্ষ গ্রামের কাউকে তারা মানতেছেন না। বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন নির্য়াতিত হাদিস মিয়ার পরিবার।

জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রুকনপুর গ্রামের মৃত মজর উল্লার পুত্র হাদিস উল্লা হবিগঞ্জ আদালতের একটি মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি নবীগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেন, বাড়ি সীমানা নিয়ে একই গ্রামের আলাল মিয়া, সোহেল মিয়া গংদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। কিছু দিন পূর্বে আসামিরা এক্সভেটর মেশিন দিয়ে টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রি শুরু করে। পরে তিনি বিষয়টি নবীগঞ্জ থানাকে অবহিত করলে তাদের মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়। ফলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। গত ৩ জুলাই আসামিগণ তাদের পালিত হাঁস দিয়ে বাদী হাদিস মিয়ার বাড়ি ঘর নোংরা করলে তিনি আপত্তি জানান। এনিয়ে আসামি হান্নান মিয়া মাতা মনোয়ারা বেগমের সাথে বাদীর স্ত্রী ফাহিমা খাতুনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আসামি ৭/৮ জন জড়ো হয়ে ফাহিমাকে মারপিট করেন। মাটিতে ফেলে আসামি আসামি আলাল মিয়া ৭ মাসের অন্তঃসত্বা ফাহিমার পেটে পা দিয়ে কয়েকটি চাপা মারে। লাথি দিলে সাথে সাথে ফাহিমার লজ্জাস্থান দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় নবীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়, ২দিন পরে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুলাই ফাহিমা বেগম মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পরে শিশুর গায়ে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ দেখা যায়। ১৪ জুলাই পর্যন্ত তিনি ওসমানী মেডিক্যালে চিকিৎসা নেন। পরে চিকিৎসকগণ জানান, মারপিটের কারনে ফাহিমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে। এবিষয়ে ১৬ জুলাই হবিগঞ্জ আদালতে মামলা করা হলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী হাদিস মিয়ার বাড়ি ঘর ভাংচুর করে এলাকা থেকে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ৩০ দিন যাবৎ হাদিস মিয়া বাড়ি ছাড়া হয়ে রোকনপুর গ্রামের প্রবাসী পারভীন বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এবিষয়ে গতকাল সোমবার সকালে রোকনপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয়, গৃহবধু ফাহিমার সাথে তিনি বলেন, আমার পরিবারকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার স্বামী সন্তান নিয়ে পালিয়ে ভেড়াচ্ছি। মামলা করেও বাড়ি ফিরতে পারছি না।

গ্রামের আব্দুল কাইয়ূম বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করার জন্য কিন্তু আসামিরা মানতেছে না। হাদিস মিয়া তাদের ভয়ে এখন এখন বাড়ি ছাড়া। গ্রামের মুরব্বি ইসমাইল মিয়া বলেন, হাদিস মিয়া আমার ভাই, তাকে মারপিট করে বাড়ি থেবে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন বলছে বাড়ি তাদেরকে দিয়ে দিতে না হলে আর হাদিস কে বাড়িতে উঠতে দিবে না।

এবিষয়ে হাদিস মিয়া বলেন, আমি গরীব মানুষ , তারা বলছে আমি তাদেরকে বাড়ি দিয়ে দিতে , আর না হয় বাড়িতে উঠতে দিবে না। আমার স্ত্রী গর্ভের সন্তান নষ্ট করলো, আমার বসত ঘর ভাংচুর করলো, এখন আমাকে বলছে বাড়ি বিক্রি করে দিতে, আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি| এবিষয়ে আসামি পক্ষের আলাল মিয়া বলেন, ঠিলা কাটা নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ রয়েছে সঠিক, তবে তারা হাদিস মিয়ার স্ত্রীকে মারপিট করেনি। কিভাবে তার সন্তান নষ্ট হয়েছে সেটা জানিনা।

নবীগঞ্জ থানার ওসি আবুল হোসেন বলেন, আমাদের কাছে মামলাটি আসে নাই। এটি পিবিআই তদন্ত করছে| তবে কোন জননিরাপত্তা বিঘ্ন হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের কাছে এখনও কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। আদালত থেকে মামলা আমাদের কাছে আসলে তদন্ত করা হবে।