মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 04 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 August 2026
অন্যান্য

ছাত্রদল নেতা সুমন সরদারের নেতৃত্বে জবি রিপোর্টার্স ইউনিটি দখলের চেষ্টা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ ও সংগঠন দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং সুমন সরদার স্বীকার করেন যে তারা তার রাজনৈতিক ছোট।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের অভিযোগ, সুমন সরদার সাবেক ছাত্রদল নেতা সুজন মোল্লার অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেন। সুজন মোল্লা ও সুমন সরদারের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁদের সঙ্গে রাজনীতি করা কয়েকজন জুনিয়রকে নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জবি রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি কমিটি থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে, ‘শিবির’ বলে চালিয়ে দেওয়ার কথা বলে, নিজ উদ্যোগে ছাত্রদলের একজন পদধারী নেতা আতাউল্লাহ আল আহাদ যিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য এবং রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে আগেই আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডারবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের বহিষ্কৃত সাবেক দুই সদস্যকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে দিয়ে ওই দুই সাবেক সদস্যকে জানানো হয়, “তোমাদের স্বাক্ষর আমরা আগের পুরোনো কাগজ থেকে স্ক্যান করে বসিয়ে দিচ্ছি।” জবি রিপোর্টার্স ইউনিটি দখলে নিচ্ছি আমরা এই বলে রাতারাতি একটি কমিটি ঘোষণা করেন। যেই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও জড়িয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সাংবাদিকদের দাবি, এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপে কমিটি ঘোষণার কারণে ক্যাম্পাসে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে সাংবাদিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা স্বাধীন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এর মাধ্যমে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুমন সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এরা আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আহাদ ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য । আমি বললে সে এখনই পদ থেকে বসে যাবে। আমার নিয়ন্ত্রণে আছে সে।"

পরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি কেন এ কাজ করেছেন? একটি রাজনৈতিক দল কি এ ধরনের কাজ করতে পারে? কিংবা আপনাকে কি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে?”

তিনি বলেন যে, না উনারা আমাকে বলেনি। ছাত্রদলের যে নেতা এই কমিটিতে আছে তারা এবং অন্যরা সবাই আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আমি বললে তারা এখনই বসে যাবে।”

এই বিষয়ে পরে তাঁকে আবার ফোন করলে তিনি রিপোর্টারকে ‘শিবির’ ও ‘ছাত্রলীগ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, “আপনি কি হুমকি দিচ্ছেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “না না, তেমন না। আমি বসব আমার টায় হবে ।”

বর্তমানে সুমন সরদারের এই রাজনৈতিক ছোট ভাই ছাত্রদলের পদধারী ওই নেতা আতাউল্লাহ আহাদকে দেখে সাংবাদিকরা নিরাপত্তা শংকায় আছেন এবং তাদের মতে এই ধরনের ফ্যাসিস্ট কায়দায় সাংবাদিক সংগঠন দখলে করার চেষ্টায় তারা কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। সুমন সরদারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ‘মব’ ও মামলার হুমকি দেখানোর জন্য একটি নিজস্ব গ্যাং গড়ে তুলেছেন এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করেন।

এদিকে, অতীতে সুমন সরদারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চাঁদা তোলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২২ মার্চ আজমেরী পরিবহনের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এত অভিযোগের পরও সুমন সরদার লাগামছাড়া ও বেপরোয়া বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রদল নেতা বলেন, “সুমন সরদার নিজস্ব গ্যাং গঠন করে ‘মব’, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন। এতে আমাদের ছাত্রদলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিএনপি, তারেক রহমান এবং জিয়া পরিবারেরও বদনাম হচ্ছে। এত কিছুর পরও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না, আমরা বুঝতে পারছি না। কে তাঁর পেছনে আছে, কত টাকা দিয়ে কাকে ম্যানেজ করছেন—সেটাও আমাদের বোধগম্য নয়। এতে আমরা ছাত্রদল করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। নতুন সদস্যরাও এসব দেখে হতাশ হয়ে সংগঠন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, বিএনপি, তারেক রহমান এবং ছাত্রদলের সুনাম রক্ষার স্বার্থে তাঁকে আর ন্যূনতম সুযোগ দেবে না।”

উল্লেখ্য, সুমন সরদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেন। ক্যাম্পাসে তাঁর গ্রুপ ‘বিদ্রোহী’ গ্রুপ হিসেবে পরিচিত।