মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Wednesday, 05 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
04 August 2026
অন্যান্য

চুড়ি'র ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, আবারও সক্রিয় হচ্ছেন নওশীন

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবহার করে অনেকে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন তার চেয়ে বেশী অভিযোগ অনেকের নিঃস্ব হওয়ার৷ প্রায়শই অনলাইন প্রতারণা শিকার হওয়ার সংবাদ শিরোনামে এলেও আইনের ফাঁক গলে এসব প্রতারক চক্রের লোক গুলো বেরিয়ে গিয়ে আবারও নিত্য নতুন জাল বুনে৷

চুড়ি মেলা নামের একাধিক পেইজ খুলে এমনই প্রতারণার অভিযোগ নওশীন তাবাসসুম নামের এক রমনীর বিরুদ্ধে৷ চুড়ি মেলা নামের পেইজ খুলে ভালো মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই নওশীন তাবাসসুমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে এনআই এক্টে দুটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তাউসিফ নামের এক ভুক্তভোগী ৷ একটি মামলায় ৬ লাখ টাকা আরেকটি মামলায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা চেক প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে৷ বিগত ৭ জুলাই ২০২৪ সালে চট্টগ্রামের ১ম মেট্রোপলিটন আদালত অভিযুক্ত নওশীন তাবাসসুম এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন (সিআর মামলা নং ১০২৬/২৪ কোতয়ালী, স্মারক নং ১৫৩২ তারিখ ৯/৭/২৪) ৷ বর্তমানে মামলা দুটি আদালতে চলমান আছে বলে জানান মামলার বাদি৷

ভুক্তভোগী তাউসিফ বিডি২৪লাইভ কে বলেন, ফেসবুকে শখের চুড়িতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত পোস্ট দেখে আমি নওশীন তাবাসসুমের সাথে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে পারিবারিক অর্থ বিনিয়োগ করি৷ বিনিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নওশিন বিনিয়োগের অর্থ ও মুনাফা ফেরত না দিয়ে নানান তাল বাহানা করতে থাকে৷ এক পর্যায়ে নওশিন আমাকে একাধিক চেক প্রদান করে যার মধ্যে আমি দুটি এনআই এক্টে ১২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মামলা দায়ের করি৷ আমার কাছে তার সর্বমোট ১৭ লক্ষ টাকা পাওনা আছে৷

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলা দায়েরের পর নওশীন চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকায় যে এপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে থাকতেন সেখান থেকে অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছে৷ উক্ত এপার্টমেন্টের একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকরা বিডি২৪লাইভ কে বলেন, "আমাদের এপার্টমেন্টে নওশীন অস্থায়ী ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন৷ নওশীনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে বিভিন্ন পাওনদারেরা এসে এপার্টমেন্টে ঝামেলা সৃষ্টি করতো৷ এক পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও তার খোঁজে আমাদের এপার্টমেন্টে এসেছিল৷ এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণে আমরা এপার্টমেন্ট মালিকরা সমিতির মাধ্যমে নওশীন যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতো সেখান থেকে তাকে বের করে দেয়ার স্বিদ্ধান্ত নেই এবং তাকে ফ্ল্যাটটি থেকে অনেক আগেই বের করে দেয়া হয়৷"

ফ্ল্যাট মালিকরা আক্ষেপ করে বলেন, "নওশীনকে আমরা অনেক আগেই এপার্টমেন্ট থেকে বের করে দিলেও আমাদের নাম্বারে বিভিন্ন সময় তার খোঁজে ফোন কল আসে৷ বিষয়টি আমাদের জন্য বেশ আপত্তিজনক হয়ে পড়েছে৷"

জানা গেছে "চুড়ি" নাম দিয়ে অনেক পেইজ খুলে প্রতারণা চালিয়েছিলেন নওশীন৷ প্রতিটি পেইজ খুলে প্রতারণা সম্পন্ন হলে সেই পেইজটি বন্ধ করে দেন তিনি৷ একই ভাবে নিত্য নতুন মোবাইল নাম্বারও ব্যবহার করতেন এবং যথারিতি এসব নাম্বার ব্যবহার করে প্রতারণা সম্পন্ন করে সেই নাম্বার গুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়৷ এই প্রতিবেদকের হাতে নওশীন, তার ভাই ও বোনের ডজন খানেক নাম্বারের তথ্য এসেছে যার মধ্যে নওশীনের ভাই মুনতাসির আরমানের মোবাইল নাম্বারটি স্বচল আছে৷ যদিও সেই নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি৷ তার বোনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক এসএমএস পাঠালেও তিনি কোন জবাব দেননি৷

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি শখের চুড়ি নামক আরেকটি পেউজ খুলে প্রতারকার ডালপালা মেলছিলো নওশীন তাবাসসুম। বিষয়টি নিশ্চিত হতে এই প্রতিবেদক গ্রাহক সেজে গতকাল ৩ আগস্ট সেই পেইজে যোগাযোগ করেন৷ খুলনা, বাংলাদেশ ঠিকানা উল্লেখ করে "শখের চুড়ি" নামক পেইজটি থেকে 01772580261 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলা হয়৷ সেই নাম্বার যাচাই করলে সেটিতে Ctg Cell Bazar লোগো যুক্ত ছবি দেখা যায়৷ সেই নাম্বারে কল দিলে কেউ রিসিভ না করায় শখের চুড়ি পেইজ থেকে এই প্রতিবেদককে 01978439822 নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়৷ প্রতিবেদক 019 নাম্বারটিতে যোগাযোগ করতে একজন পুরুষ নিজেকে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি পরিচয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন৷ এসময় তিনি জানান, তারা অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠান৷ ইতিপূর্বে তাদের অনেক পেইজ নষ্ট হয়ে গেছে৷ এসময় প্রতিবেদক নিজেকে পুরনো গ্রাহক পরিচয় দিয়ে পেইজটির সাথে নওশীন তাবাসসুম আছেন কিনা জানতে চাইলে শখের চুড়ি পেইজের কথিত কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি "হ্যা" সূচক জবাব দেন৷ তাঁর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বাহিরে আছেন বলে জানানো হয়৷ এরপর প্রতিবেদক নিজের সাংবাদিক পরিচয় জানানোর পর সেই কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সুর পাল্টে যায়৷ খুলনার শখের চুড়ি পেইজের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে Ctg Cell Bazar এর ছবি কেন প্রশ্ন করলে কোন জবাব দিতে পারেননি ৷ এক পর্যায়ে পেইজটিতে নওশীন তাবাসসুমের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বিকার করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন৷ তাদের সেই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে নওশীন তাবাসসুমের প্রতারণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোন জবাব মেলেনি৷

আজ ৪ আগস্ট সেই শখের চুড়ি পেইজটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে৷ অভিযোগ উঠছে আবারও নতুন করে কাউকে ফাঁদে ফেলতে একাধিক পেইজ খুলে সক্রিয় হয়েছেন নওশীন৷ ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে আইনের ফাঁক গলে সহজেই বেরিয়ে যায় নওশীনেরা৷ ভুক্তভোগীরা ন্যয় বিচার পেতে পেতে তারা আরো অনেককেই সর্বস্বান্ত করে দেয়৷ দ্রুত এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী বলে মনে করছে সচেতন মহল৷