মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Wednesday, 05 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
05 August 2026
অন্যান্য

ইরান যুদ্ধে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সব মজুত শেষ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে। এমনটাই দাবি করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্সসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ দাবি নাকচ করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনও সময় ও যেকোনও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সামরিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল-এর ‘প্রায় পুরো’ বৈশ্বিক মজুত ব্যবহার করেছে।

সিবিএস নিউজও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে।

তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পেন্টাগন। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রেসিডেন্ট যখন, যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

এদিকে সিএনএনের বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র এবং সাম্প্রতিক অস্ত্রভান্ডার মূল্যায়নের তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পেন্টাগনের সামগ্রিক গোলাবারুদের মজুতকে ‘উদ্বেগজনকভাবে কম’ বলে বর্ণনা করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে আগে থেকেই থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক সংস্করণের প্রায় ২ হাজার ২০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, এ ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়বে।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়াই গত সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর অতিরিক্ত হামলার পরিকল্পনা বাতিল করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। কারণ উপসাগরীয় মিত্ররা তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পাল্টা হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল।

তবে এ দাবি নাকচ করে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিএনএনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘যথেষ্টেরও বেশি’ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মজুত রয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস), প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার হয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র দিয়ে এ মজুত পূরণের গতিও বেশ ধীর। পেন্টাগন প্রতি মাসে প্রায় ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।