মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Wednesday, 05 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
05 August 2026
অন্যান্য

নানা আয়োজনে খুবিতে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় অদম্য বাংলা চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেট হয়ে হাদী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে দুপুর ১২টায় চারুকলা স্কুলের আঙিনায় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে ৪-৭ বছর, ৮-১২ বছর এবং ১৩-১৮ বছর—এই তিনটি বয়সভিত্তিক গ্রুপে প্রতিযোগীরা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজনও করা হয়। আয়োজনে পোলাও, মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টি ও সফট ড্রিংকস পরিবেশন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা ৪ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থীকে এ আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হলে ১ হাজার ১৮৫ জন, বিজয় ২৪ হলে ১ হাজার ১৩৫ জন, অপরাজিতা হলে ১ হাজার ৫০ জন, খান জাহান আলী হলে ৮৫১ জন এবং খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হলে ৭৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অদম্য বাংলা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাদ জোহর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরে শহীদদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ যেসব সাহসী তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য গভীর অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের স্মৃতি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্ম ও মূল্যবোধের মাধ্যমে ধারণ করতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই আন্দোলনে আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সকল শহীদকে স্মরণ করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বোধ ও দেশপ্রেম বিকাশেরও কেন্দ্র। নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতেই এ আয়োজন। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”