মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Wednesday, 05 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
05 August 2026
অন্যান্য

ঐক্যবদ্ধ জনগণই হচ্ছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্মাতা: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের উদ্যোগে আজ ৫ই অগাস্ট সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকারের সঞ্চালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ডা : আবদুল হাকিম, বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ কাইউম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক রফিক আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সহ-সভাপতি দীপা মল্লিক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক সাইফুর রুদ্র।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আলোচনা সভার কাজ শুরু হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার কায়েমের পথ কোনো দেন-দরবার নয়, অধিকার কায়েমের পথ হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান। চব্বিশের জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের নির্বিচার হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র শ্রমিক জনতা সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলেই সংঘটিত হয়েছিল এই গণঅভ্যুত্থান । তিনি বলেন, আসলে ঐক্যবদ্ধ জনগণই হচ্ছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্মাতা।

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, শ্রমিক কৃষক জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার লক্ষ্যে তাই আমাদের সর্বত্র শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৮ দফা কর্মসূচী বাস্তবায়নে সারা দেশে লাখ লাখ সদস্য সংগ্রহ করতে হবে।

সজীব রায় বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব আবারও নতুন করে জানলো বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের দেশ। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সফলতা হলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের উচ্ছেদ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ ছাত্র সমাজের সাহসী ভূমিকা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে বর্তমানে বিএনপি, জামাতে ইসলামী, এনসিপি প্রভৃতি দলভুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

সজীব রায় দুর্নীতি লুটপাট ইজারাদারি -খাজনাখোরির বিরুদ্ধে সর্বত্র শ্রমিক কৃষক জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

মুহাম্মদ কাইউম বলেন, ব্রিটিশ শাসনের অবসান বা পাকিস্তানি শাসন উচ্ছেদ হলেও বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের কোন মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। শাসক বদলালেও শোষণ বৈষম্য নির্যাতনের অবসান হয়নি। ২৪- শের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে সাধারণ জনগণের মধ্যে তাই নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

ডা আবদুল হাকিম কমরেড বদরুদ্দীন উমরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।আগামী দিনে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক সমাজের অবসান ঘটাতে হবে।

সৌরভ রায় বলেন, দেশে সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে আবারো লুণ্ঠন দুর্নীতি শুরু হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশের শিল্প কৃষি বিকাশ বিরোধী, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী এক অধীনতামূলক চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে সরকারি দল কি বিরোধীদল কোন আলোচনা করছে না। এর কারণ কি এরা সকলেই সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদলেহন করে চলেছে?

সাইফুর রুদ্র বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশে শিল্পভিত্তি স্থাপনে সরকারের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অথচ এরাই আবার বলছে 'সবার আগে বাংলাদেশ'। অতীতের সরকারগুলোর মতো বর্তমান সরকার পাটকল চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি মুক্ত ও আধুনিকায়ন না করে তা ব্যবসায়ীদের ইজারা দিতে চলেছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

রফিক আহমেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমাদেরকে শ্রমজীবী জনগণের শ্রেণী সচেতন সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। কেননা সংগঠন ছাড়া কোন আন্দোলন হয় না। আবার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া আন্দোলন সঠিক পথে যায় না।

দীপা মল্লিক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র সমাজ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন উচ্ছেদের পাশাপাশি ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। এখন সময় এসেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য থেকে দেশকে মুক্ত করার।