05 August 2026
শ্যামনগরে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশ: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায়, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা শাখা। বুধবার বিকেল ৪টায় শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে মিছিল নিয়ে শ্যামনগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর মাইক্রো স্ট্যান্ডে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। আয়োজকদের দাবি, মিছিল ও সমাবেশে পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ পরিচালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও মাওলানা আব্দুল মজিদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম বারী, মাওলানা মঈনুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রেজাউল ইসলাম, অধ্যক্ষ সাইদি হাসান বুলবুল, মাওলানা আমিনুর রহমান, অধ্যাপক গাজী আব্দুল হামিদ ও অধ্যাপক মহসিন আলমসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা ও বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিলাম। তবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রক্তদান ও জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়েই ৫ আগস্টের বিপ্লব চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করে। এ বিপ্লব কোনো একক দলের নয়। এটি ছাত্র-জনতা ও দেশের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফল। ৫ আগস্টের পরিবর্তন না এলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হতো না। আমরা দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাই এবং দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যমুক্ত দেখতে চাই।
তিনি আরো বলেন, এই আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর দল তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠনকে সমর্থন করে না। বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা উগ্রবাদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তারা আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে করবেন না। তবে আমরা সংঘাত চাই না। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।
