মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 08 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 August 2026
অন্যান্য

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রেমিকার বিয়ের দিন প্রমিকের আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রেমিকার বিয়ের দিন রাকিব প্রামাণিক (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরের পর উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের জটিবাড়ি গ্রামের একটি আম বাগান থেকে রাকিব প্রামাণিক (২২) নামের ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সোহরাব প্রামাণিকের ছেলে। তবে তিনি ফেসবুকে ঝগ জধশরন কযধহ নামে পরিচিত ছিল।

মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডি ঝগ জধশরন কযধহ থেকে দেওয়া এক পোস্টে রাকিব দাবি করেন, তিনি এক তরুণীকে ভালোবাসতেন এবং ওই তরুণীরও তাঁর প্রতি ভালোবাসা ছিল। তবে পরিবার মেয়েটিকে বিয়ে দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, মেয়েটিকে না পেলে তিনি বেঁচে থাকবেন না। একই সঙ্গে তিনি তাঁর মৃত্যুর জন্য মেয়েটির বাবা-মাকে দায়ী করেন এবং তাঁদের পরিচয় উল্লেখ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া আরেকটি পোস্টে রাকিব তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চান। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো কিছু না জানিয়েই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সবাইকে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পোস্টের শেষে তিনি বিদায় জানান এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

জটিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, রাকিব ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তিনি বিদেশে গেলেও প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে আসেন। এরপর খেলাধুলায় সময় কাটাতেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ের খবর পেয়ে বিয়ের জন্য মেয়ের পরিবারকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। তবে মেয়ের বিয়ের দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা আও বলেন, এ ঘটনায় জটিবাড়ি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে মুখটি প্রতিদিন হাসিমুখে সবার সঙ্গে মিশত, সেই রাকিবের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা। কেউই যেন মেনে নিতে পারছেন না এমন অকাল বিদায়ে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।