মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 07 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 August 2026
অন্যান্য

শেখ হাসিনার ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “বাস্তবতা এটাই, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই। তিনি এমন অপকর্ম করেছেন যে, তাকে শুধু ফ্যাসিস্ট নয়, অনেকেই এখন ‘মাফিয়া’ বলছেন। বাংলাদেশের মানুষ তাকে আর গ্রহণ করবে না।”

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

এসময় তিনি বলেন,'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঁচিয়ে রাখতে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান, কবিতা ও শিল্পচর্চার বিকল্প নেই।' একই সঙ্গে বৈচিত্র্যের নামে বিভাজন পরিহার করে সহাবস্থানের রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান জাবি উপাচার্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সম্প্রতি বিদেশে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কয়েকটি মিছিল দেখে মনে হতে পারে দেশে তাদের পক্ষে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। “ফেসবুকের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।”

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও এমন একটি প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন। কিন্তু বাস্তবে জনগণের মধ্যে তার জন্য কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৭ বছরে তিনি বহুবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার প্রজন্মের দায়িত্ব ছিল তরুণদের সাহস জোগানো। সেই বিশ্বাস থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেছি। ৩৬ জুলাইয়ের ভিতটা গত ১৭ বছরে তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝে বিভাজন হলে এর সুযোগ পতিত মাফিয়াদের উত্থানের পথ তৈরি করবে ” বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এসময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, তবে সংযোজন বিয়োজন হবে। পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টদের সহযোগী ব্যতীত কোন দলের সাথে বৈষম্য করা হয় না বলেও জানান তিনি।

জাহাঙ্গীরনগরে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধতায় বিমোহিত তিনি মন্তব্য করেন, "আপনাদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নিজেও এখানে আসবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খাল খনন কর্মসূচি অতিদ্রুত উদ্বোধন করবো।"

বক্তব্যের শেষদিকে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতি আবেগ দিয়ে নয়, আদর্শ ও সচেতন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে করতে হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নতুন প্রজন্মকে গণতন্ত্র, নৈতিকতা ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানান।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।