মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 07 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 August 2026
অন্যান্য

জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার আহ্বান জাবি ভিসির

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঁচিয়ে রাখতে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান, কবিতা ও শিল্পচর্চার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বৈচিত্র্যের নামে বিভাজন পরিহার করে সহাবস্থানের রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত আয়োজনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

উপাচার্য বলেন, “মাত্র দুই বছর আগে যেসব তরুণ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে, তাদের আত্মত্যাগ এত দ্রুত ভুলে যাওয়া লজ্জার। জুলাইকে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করলেই হবে না, এর আদর্শকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে আজও মানুষ স্মরণ করে গান, কবিতা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে তেমন শক্তিশালী সাহিত্য-সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের চেতনাকে পৌঁছে দিতে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।”

অধ্যাপক কামরুল আহসান আরও বলেন, “২৪-এর চেতনা কখনো অশালীনতা শেখায় না। প্রতিবাদেরও একটি শালীন ভাষা আছে। নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও দায়িত্ববোধের চর্চার মাধ্যমে জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “চলুন সবাই মিলে সহাবস্থানের রাজনীতি করি। মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেই বিভাজন যেন ফ্যাসিবাদ বা অন্যায়ের সুযোগ সৃষ্টি না করে। অহংকার নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই আমরা শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে পারব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ্যানি বলেন, সম্প্রতি বিদেশে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কয়েকটি মিছিল দেখে মনে হতে পারে দেশে তাদের পক্ষে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। “ফেসবুকের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি হলে সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। “সস্তা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লেগে থাকলে সেই সুযোগ শেখ হাসিনা নিতে চাইবেন। তাই গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে,” বলেন এ্যানি।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।