মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 08 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
08 August 2026
অন্যান্য

সরিষাবাড়ীতে বিড়াল, সাপ ও কুকুরের কামড়ে আহত শতাধিক

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিড়াল, সাপ ও বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে গত এক সপ্তাহে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রাণীর আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে আওনা, সাতপোয়া, মহাদান, কামরাবাদ ও পৌর এলাকায় এ আতঙ্ক বেশি ছড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাদান, আওনা, পিংনা, সাতপোয়া ও কামরাবাদ ইউনিয়নসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বেওয়ারিশ কুকুর দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করছে। হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনায় মানুষকে ধাওয়া করে কামড় দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। নিরাপত্তার জন্য কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় লোকজন দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে বিড়ালের কামড়ে মহাদান ইউনিয়নের জমিলা (৫২), মালেকা (৪০), সেলিনা (৫৫), সাতপোয়া এলাকার আহনাফ (৬), খুশি খাতুন (৩৫), ধারাবর্ষা এলাকার খুকি (৪০) ও লিপি (২৩), বলারদিয়ার এলাকার সানজিদা আক্তার (২২), কোনাবাড়ী এলাকার নাজমা (৪০), রেলস্টেশন এলাকার সৃষ্টি (২২), সৈয়দপুর গ্রামের সুলতান (৩৫) ও আসমা (৮২) সহ ৫৫ জন আহত হয়েছেন।

সাপের কামড়ে মহাদানের হাবিউর (৩৮), ভাটারার খোকা মিয়া (৪২), নগদার জাহাঙ্গীর (৫৭), পাখিমারা এলাকার লাকী (৩৭), বগারপড়ের পাপিয়া (১৮), ডুরিয়ারভিটা গ্রামের সামসুন নাহার (৫০) ও সালালপুরের আয়েস আলী (৬০) সহ ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া পাগলা কুকুরের কামড়ে আওনা ইউনিয়নের ধনচরচর এলাকার দুলাল মিয়া (৫৮), আয়শা (৩৮), হাসনা (১৮), সাতপোয়া ইউনিয়নের মুক্তা (৫২), হাবিবুর রহমান (২৮), আনোয়ারা (৫০), সালমা (৫৫), কামরাবাদ ইউনিয়নের ইসমাইল (৭), সাজু (১৩), মঞ্জু (৮) এবং পৌরসভার চকহাটবাড়ী এলাকার রহিমা (৩৫), মায়া (৩০), আবদুর রহমান (৫), আয়াত হাসান (৬) ও সৈয়দপুর এলাকার সুলতান (৬৫) সহ প্রায় অর্ধশত নারী, পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিরা সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের পরিবারের অভিযোগ, কুকুরের কামড়ের পর সময়মতো হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। তাঁরা জলাতঙ্ক প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই কুকুর, সাপ ও বিড়ালের কামড়ে আহত রোগী আসছেন। গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কুকুরসহ বন্য প্রাণীর কামড়ে আহত রোগীদের জন্য অ্যান্ট্রি র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

সরিষাবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক লিজা রিছিল বলেন, পাগলা কুকুরের কামড়ের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।