08 August 2026
অরুণাচল নিয়ে চীনের টানাটানির মুখে ভারতের নতুন পদক্ষেপ

অরুণাচল নিয়ে আবারও চীনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ভারত। চীনের বারবার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের মুখে এবার অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করেছে ভারত সরকার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানগুলোকে তাদের নির্ধারিত নামসহ সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে’র।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, এসব স্থান সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে অবস্থিত মোট ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে তাদের নামসহ চিহ্নিত করা হয়েছে।
নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনে বেইজিংয়ের ধারাবাহিক উদ্যোগ। বেইজিং অরুণাচলকে ‘জাংনান’ নামে অভিহিত করে সেখানে বিভিন্ন স্থানকে নতুন নামে তালিকাভুক্ত করে আসছে।
ভারত বরাবরই চীনের এসব উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, এ ধরনের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের ওপর ভারতের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-সংলগ্ন লংজু। ১৯৫৯ সালে চীনা বাহিনী ওই এলাকায় প্রবেশ করলে ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার অন্যতম প্রথম কেন্দ্র হয়ে ওঠে লংজু। আপার সুবানসিরি জেলার কাছের মাজা গ্রামও তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ—জো লা, রিজা লা ও পুকুর লা—মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের অন্যতম প্রথম সংঘর্ষের স্থান থাগ লাওকেও আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চাংলাং জেলার জয়রামপুরও তালিকায় রয়েছে। পূর্ব অরুণাচল ও মিয়ানমার সীমান্তের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই এলাকাটি।
তালিকায় আরও রয়েছে উচ্চভূমির হ্রদ শম্ভো সরোবর, বড়া কুন্ডুন, ছোট কুন্ডুন, ধন বাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর ও জাসবন্ত গড়। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের বীর সেনা জাসবন্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিসৌধও রয়েছে জাসবন্ত গড়ে, যা তাওয়াং যাওয়ার সড়কে অবস্থিত।
এছাড়া, সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর ও বৈশাখী গ্রামের নামও সরকারি মানচিত্রে যুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের আরেক বীর ত্রিলোক সিং থাপার স্মরণে নির্মিত শের-ই-থাপা স্মৃতিসৌধ। পাশাপাশি ছোট রোপুক, বড় রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা, কমলাং নগর ও বুদ্ধমন্দিরও চিহ্নিত করা হয়েছে মানচিত্রে।
নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এসব স্থান তাদের নির্ধারিত নাম ও অবস্থানসহ সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, চীন ২০১৭ সালে অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের নতুন নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করে। এরপর ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নাম পরিবর্তনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ভারত সরকারের ভাষ্য, ভারতীয় ভূখণ্ডের জন্য চীনের দেয়া তথাকথিত কাল্পনিক নাম কোনোভাবেই বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে না। এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
