09 August 2026
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদসহ অন্যরা।
কর্নেল অলি আহমদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপর থেকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২১১টি আসনে জয় পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৬৮টি আসন পেয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপির জোটসঙ্গী বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে।
ফলে সংসদে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার ঘটনায় এবারের নির্বাচন ১৯৯১ সালের পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
