10 August 2026
বাবা ডাক শেখার আগেই এতিম হলেন ৩৪ দিনের সাফা

এক মাস আগে প্রবাসী শামীম আহমেদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যা সন্তান। সুদূর সৌদি আরবে বসে সেই সন্তানকে ভিডিও কলে দেখতেন আর প্রহর গুনতেন কবে মেয়েকে কোলে নেবেন। কিন্তু মেয়েকে স্পর্শ করার সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল তার।
রবিবার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা যান নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শামীম আহমেদ (৩৫)। জীবিকার তাগিদে মাত্র আট মাস আগে পরিবার রেখে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব দূর করে সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন শামীম। কিন্তু রোববারের আগুন মুহূর্তেই যেন সবকিছু কেড়ে নিল।
শামীমের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বাবাকে চেনার আগেই বাবা হারাল শামীমের সন্তান।
স্বজনেরা জানান, শামীম সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাস পরই তার ঘরে আসে নতুন অতিথি। এক মাস আগে সন্তান জন্মের খবর পেয়ে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রবাসে থাকায় সন্তানকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। তাই ভিডিও কলই ছিল তার ভরসা। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই মেয়েকে ভিডিও কলে দেখতেন। সন্তানের সঙ্গে কথা বলতেন। দেশে ফেরার পর মেয়েকে কোলে তুলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
নিহতের মা শাহীনুর বেগম বলেন, সরকারের কাছে আবেদন আমার সন্তানের লাশটা আমাদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেন। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান সৌদিতে গিয়েছিল। আমার এক মাস বয়সি নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না। আমার ছেলের এক মেয়ে রয়েছে, সরকার যেন তার ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে দেয়।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিয়াদের খোরদাম শহরের সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কারখানার ভেতরে কর্মরত অবস্থায় শামীমসহ ১৬ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার আরও দুই যুবক রয়েছেন। তারা হলেন- খাজুরাশ্রীপুর পাড়ার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (৩০) ও মহিষডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয় (২৫)।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান খান বিডি২৪লাইভকে জানান, ঘটনাটি জানার পরই জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানো হয়েছে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তিনটি পরিবারকে প্রাথমিক ভাবে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। নিহত পরিবারের যেকোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হবে। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাছ শুরু করেছে।
