মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 11 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
10 August 2026
অন্যান্য

বগুড়ার ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাস করেনি কেউ

এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় বগুড়ার ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮টি মাদ্রাসা এবং একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১০টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের রুমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফরাত জেরিন এসএসসির ফলাফল ঘোষণার পর বগুড়ার এই ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা যায়।

বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসা, শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসা, একই উপজেলার ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদ্রাসা, দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা , শেরপুরের কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, একই উপজেলার মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, ধুনটের হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যালয় বিএম কলেজ, সোনাতলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদ্রাসা, এবং ধুনটের রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, “আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা এক বা দুইটি বিষয়ে আটকে যাওয়ায় পাস করতে পারেনি। এবার কীভাবে এমন ফল হলো, সেটি আমরাও বুঝতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় ২১ জন শিক্ষক রয়েছেন। তারপরও এমন ফলাফল হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি ৫০ বছরের রেকর্ড। এ বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে সভা করেছি। সামনে কীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি করা যায় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কীভাবে আরও মনোযোগী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

সুপার বলেন, আলিম মাদ্রাসাগুলোতে বর্তমানে শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসামুখী করা যায়, সেটিই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ জুয়েলুর রহমান বলেন, এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত। তবে শুধু নন-এমপিও হওয়ার কারণেই শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে এটা বলা ঠিক হবে না। আমাদের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ছিল না। এটিও খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ হতে পারে।

ধুনটের হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যালয় বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত। এবার সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তবে পরীক্ষায় কতজন পাস করেছে বা ফেল করেছে, তা আমি এখনও জানতে পারিনি। কলেজের ভবনের ঢালাইয়ের কাজ চলায় আমি ব্যস্ত আছি এবং ইন্টারনেটে ফলাফল দেখার সুযোগ হয়নি। ঢালাইয়ের কাজ শেষ হলে নেটে বসে শিক্ষার্থীদের ফলাফল দেখে বিস্তারিত জানতে পারব।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করেন। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে কি না, কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন কি না প্রথমে সেগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।