11 August 2026
সেই গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সচিবালয় থেকে ইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর ইসি সাতক্ষীরা-৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিষয়টি সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ বিষয়ে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানিয়ে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্ব হলো আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া। পরে নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয়কে জানাবে। এরপর অধিবেশনে স্পিকার বিষয়টি সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন।
এর আগে গত ২৩ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ওই চিঠি দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। এরপর তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আইন ও সংবিধান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। অন্যদিকে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনের কারণে দুই বছরের বেশি সময়ের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে সাজা শেষ হওয়ার পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য থাকবেন না।
তবে গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব বিধান সরাসরি প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর ভাষ্য, গাজী নজরুল ইসলাম দল থেকে পদত্যাগ করেননি এবং সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি। আবার নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও এ বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা কারাদণ্ড হয়নি। ফলে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিধানও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওগুলোতে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। শুরুতে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন।
তবে পরদিন নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তিনি জানান, গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেছেন।
স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া জামায়াতের চিঠিতে বলা হয়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক তদন্ত করা হয়। তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ২২ জুলাই বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়।
৭৪ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে এবার তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ১৯৯১ সালে প্রথমবার একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমিরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
